অফ-পেইজ এস.ই.ও (Off-Page SEO – Checklist) সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত

Off-Page SEO সম্পর্কে অনেকেই শুনেছেন। ওয়েবসাইট বা ব্লগের জন্য Off-Page SEO এর বিকল্প কিছু নেই। আসুন জেনে নিন, কেন Off-Page SEO দরকার? Off-Page SEO ঠিক কীভাবে করতে হয়? বিস্তারিত জানুন।

অফ-পেইজ এস.ই.ও (Off-Page SEO – Checklist) সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত
অফ-পেইজ এস.ই.ও (Off-Page SEO – Checklist) সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত

“Off-Page SEO Checklist” আপনার ওয়েবসাইট অথবা ব্লগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  এর পূর্বে আমি আপনাদের “On-Page SEO – Checklist” সম্পর্কে জানিয়েছি। আজ আমি আপনাদের “Off-Page SEO – Checklist” সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করছি।


কোন বড় কাজ করতে গেলে সেটাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিতে হয়। তাই তো আমরা ডায়েরি লিখে থাকি। এতে দ্রুত সফলতা মেলে এবং কাজে স্ট্রেসও কম আসে। ঠিক তেমনি ওয়েবসাইট/ব্লগ সাইটে কিছু লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষ কিছু বিষয় নজরে রাখতে হয়। চলুন জানা যাক।


১. Backlink Analysis

ব্যাকলিংক বিশ্লেষণে আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, আপনার ওয়েবসাইটে মোট কত ব্যাকলিংক আছে। এছাড়াও ঠিক কত সংখ্যক ডোমেইন থেকে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে ব্যাকলিংক দেওয়া হয়েছে বা তৈরি করেছেন।


সংক্ষিপ্ত এই টেবিল আপনাকে সেজন্য সাহায্য করতে পারে,

(ক) Total Links

(খ) Total Referring Domains

(গ) Most Linked Pages

(ঘ) Anchor Texts


প্রথম দুটি বিষয় নিয়ে বলেছি। কিন্তু এর পাশাপাশি আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, কোন পেইজে আপনি বেশি ব্যাকলিংক পাচ্ছেন। ব্যাকলিংক বিশ্লেষণের জন্য আপনি “Ahrefs”, “SEMrush” অথবা “Google Search Console” টুল আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।


কিন্তু আপনার কাছে যদি কোন “Paid Tool” থাকে তবে আপনাকে ঢের অপশন দেবে ব্যাকলিংক বিশ্লেষণে। তবে আমরা যারা নতুন তারা আপাতত ফ্রি টুলস্ ব্যবহার করেও কাজ চালাতে পারবো।


ফ্রি টুলস্ সমূহের মধ্যে “Google Search Console” আপনাকে যথাযথ তথ্য দিয়ে থাকে, যদিও “Paid Tools” এর মত বেশি অপশন থাকে না। সো হোয়াট? কিন্তু আপনি যদি নতুন ওয়েবসাইটে কাজ শুরু করেন তবে এই স্টেপ স্কিপ করার কোনো মানে হয় না, বা উচিত নয়।


Anchor Texts সম্পর্কে বিস্তারিত অন্য কোন একদিন আলোচনা করা যাবে। আপাতত Anchor Texts মানে হলো, “Anchor Texts হলো দৃশ্যমান অক্ষর এবং শব্দ যা হাইপারলিঙ্কগুলি ওয়েবে অন্য নথি বা অবস্থানের সাথে লিঙ্ক করার সময় প্রদর্শন করে থাকে।”


২. Competitor’s Backlink Analysis

Off-Page SEO – Cheklist এর ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকে দ্বিতীয় অবস্থানে রাখা যায়। এ বিষয়ে একটি ভালো একটি গল্প আছে। গল্পটি হলো,


আপনি আর আপনার বন্ধু কোন এক জঙ্গলে গেলেন। হঠাৎ করে সেখানে একটি সিংহ চলে আসে। এখন আপনাকে এত দ্রুত দৌড়ানোর দরকার নেই যে, আপনি জঙ্গল থেকেই বের হয়ে যান। আপনাকে শুধু সিংহের আক্রমণ থেকে বাঁচতে হবে।


ঠিক তেমনি ওয়েবসাইট বা ব্লগে থাকবে আপনার অনেক প্রতিযোগী। আপনাকে শুধু আপনার প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলতে হবে যাতে করে ঐ সিংহ আপনাকে নয়, আপনার প্রতিযোগীকে ধাওয়া করে। “Google Ranking” ঠিক এমন ভাবেই কাজ করে থাকে।


আপনাকে সবসময় নজর রাখতে হবে আপনি কেমন করছেন? এবং আপনার প্রতিযোগী কেমন করছে? এক্ষেত্রে আপনাকে “Google Search Console” সাহায্য করতে পারবে না। আপনি “Ahrefs” টুল ব্যবহার করতে পারেন এবং “GTmetrix” টুল -এ তুলনা করে দেখতে পারেন।


৩. Link Building Campaign

ব্যাকলিংক তো ভালোই বানালেন কিন্তু এখন আপনাকে ফোকাস করতে হবে, Link Building Campaign -এর ওপর। এক্ষেত্রেও বহু ধরণের বিষয় মাথায় রাখতে হবে। অনেকভাবে আপনি লিংক তৈরি করতে পারবেন। আমি কিছু বিষয় পয়েন্ট আকারে নিচে তুলে ধরলাম,

(ক) Directory Submission

(খ) Social Profile

(গ) QnA Sites

(ঘ) Forum & Community

(ঙ) Job Portals

(চ) Guest Blogging

(ছ) Mention Links

(জ) Broken Links

(ঝ) Link Exchange

(ঞ) Testimonials

(ট) Link Buying

(ঠ) Sponsoring

(ড) Killer Content

(ঢ) Genuine Blog Comments


এই সমস্ত লিংক কীভাবে তৈরি করতে হয় তা অন্য কোন অনুচ্ছেদে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।


৪. Find The Gap

আপনার প্রতিযোগীর কাছে এমন কি কি-ওয়ার্ড আছে যা তাকে গুগল র‍্যাঙ্কিং ফাক্টরে এগিয়ে রেখেছে আর আপনি নেই। অথবা, একই কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করা সত্ত্বেও আপনি তার পেছনে, অনেকক্ষেত্রে পরের পাতায়। সেক্ষেত্রে আপনাকে উক্ত কি-ওয়ার্ড বিবেচনায় আনতে হবে এবং ঐ কি-ওয়ার্ডে আরো ভালো ভালো তথ্য দিয়ে কন্টেন্ট লিখতে হবে।


এতে করে লাগাতার আপনি যদি এই কি-ওয়ার্ডে জোর দেন তবে সহজেই আপনি আপনার প্রতিযোগী কে টপকিয়ে উপরে যেতে পারবেন। এজন্য আপনি Ahrefs এবং SEMrush -এর মত টুলস্ ব্যবহার করতে পারেন।


৫. Outreach

কন্টেন্ট লেখা একরকম কাজ। আবার উক্ত কন্টেন্ট প্রোমোট করা হচ্ছে আরেক ধরণের কাজ। জবরদস্ত কন্টেট লিখেও গুগলের পাত্তা না পাওয়ার কারণ হচ্ছে আপনি ভিজিটর পাচ্ছেন না। সেজন্য নিম্নোক্ত বিষয় মাথায় রাখতে হবে,

(ক) Social Media

(খ) Guest Blogging

(গ) Influencer Outreach


সোশ্যাল মিডিয়া ফ্রি হয় যেমন, ফেসবুক, টুইটার, ইনন্সটাগ্রাম, লিঙ্কডিন ইত্যাদিতে আপনি ফ্রি-তে আপনার কন্টেন্ট শেয়ার করতে পারবেন। Guest Blogging হচ্ছে, আপনি আপনার অনুরোধ রাখলেন আপনার কন্টেন্ট তাদের ব্লগে শেয়ার করার জন্য।


বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেউ রাজী হতে চায় না। কিন্তু একসময় কেউ না কেউ নিশ্চয় রাজী হবেন। আর Influencer Outreach করার ক্ষেত্রে আপনাকে Influencer -কে  আগে খুঁজতে হবে। কারণ তার ওয়েওসাইটে বা সোশ্যাল প্রোফাইলে বা ইউটিউবে যদি একটা লিংক শেয়ার দেয় তবে অনেক ভিজিটর আপনি পাবেন।


৬. Local SEO

আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও আপনি আপনার অবস্থান তৈরি করতে পারেন। এটা বেশ সহজ। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে আমরা ভুল করে বসি। তাই চেষ্টা করুন Local SEO -তেও আপনার পজিশন শক্ত করার।


৭. Video Marketing

ইউটিউবে কোন অনলাইন টুল গিভ-ওয়ে করেও আপনি আপনার ওয়েবসাইতে ট্রাফিক বাড়াতে পারবেন। এছাড়াও আপনি আপনার যেকোনো ভিডিও’র ডেসক্রিপশনে লিংক ড্রপ করতে পারেন। এতেও আপনার ভিজিটর বাড়বে।


৮. Paid Ads

টাকা দিয়ে আপনি আপনার ব্র্যান্ড প্রোমোট করতে পারেন। কিন্তু কন্টেন্ট প্রোমোট করার বিষয়টি আলাদা। মার্কেটিং দুনিয়ায় হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। আপনাকে কিছু না কিছু ইনভেস্ট তো করতেই হবে। মানছি, আপনি খুব ভালো লিখেন, ভালো এস.ই.ও জ্ঞানও আছে। তো? গল্প এখানেই কি শেষ?


খুব সম্ভবত নয়। কিন্তু আজ এই পর্যন্তই। কথা হবে অন্য কোন একদিন, অন্য কোন টপিক নিয়ে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


আরও পড়ুনঃ On-Page SEO: আপনার ওয়েবসাইটকে Ranking করুন দ্রুত!