ক্লাউডফ্লেয়ার (Cloudflare) কি? কেন ক্লাউডফ্লেয়ার (Cloudflare) ব্যবহার করা উচিত

Cloudflare, Inc. হলো একটি অ্যামেরিকান বিষয়বস্তু বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং DDoS প্রশমন কোম্পানি, যেটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি ওয়েবসাইটের দর্শক এবং CloudFlare গ্রাহকের হোস্টিং প্রদানকারীর মধ্যে একটি বিপরীত প্রক্সি হিসাবে কাজ করে। এর সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত।

ক্লাউডফ্লেয়ার (Cloudflare) কি? কেন ক্লাউডফ্লেয়ার (Cloudflare) ব্যবহার করা উচিত
ক্লাউডফ্লেয়ার (Cloudflare) কি? কেন ক্লাউডফ্লেয়ার (Cloudflare) ব্যবহার করা উচিত

CloudFlare কীভাবে কাজ করে? একটি ওয়েবসাইটের জন্য CloudFlare ঠিক কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ? হয়তো আপনারা অনেকেই ইতোমধ্যেই জানেন, আবার কেউ কেউ ঠিকঠাক জানেন না। আমার আজকের আলোচনার বিষয় CDN (Content Delivery Network) নিয়ে।


১. ডোমেইন ও হোস্টিং

CloudFlare সম্পর্কে জানার পূর্বে আমাদের জানতে হবে ডোমেইন সম্পর্কে। তো, ডোমেইন হলো একটি ঠিকানা। কেমন ঠিকানা? যেমন ধরুন, আমার বাড়ির ঠিকানা হচ্ছে, “হাউজ নং ক, রোড নং খ, থানা গ, শহর ঘ, দেশ ঙ, পোস্ট কোড ১২৩৪” এরকম হতে পারে।


ঠিক তেমনি “www.yourdomain.xyz” হলো একটি ইন্টারনেট দুনিয়ার ঠিকানা। এখন ধরুন, কাউকে আমি আমার বাড়ির ঠিকানা দিয়ে দিলাম এবং নিমন্ত্রণও জানালাম। এরপর উক্ত ব্যক্তি আমার দেওয়া ঠিকানায় এসে খুঁজে পেলেন না কিছুই। কারণ আমি মাত্র একটি ঠিকানা তৈরি করেছি, বাড়ি নয়।


হোস্টিং বা সার্ভার আমাদের ঠিক ঐ উপকারটুকু করে থাকে। অর্থ্যাৎ আমাদের ইন্টারনেট জগতে একটি বাড়ি বানানোর সুযোগ করে দেয় এবং এর বিনিময়ে তারা কিছু টাকা নেন। এখন যদি পুনরায় আপনি আপনার অতিথি বা বন্ধুকে আপনার বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানান তাহলে ঠিক ঐ ঠিকানা ধরে আপনার তৈরি করা বাড়িতে সহজেই তিনি পৌঁছে যেতে পারবেন।


২. CDN (Content Delivery Network)

এখন আপনার ঠিকানা আছে, আপনার বাড়িও আছে। তাহলে আবার CloudFlare নামক এই নতুন বস্তুর দরকার কি? আপনি চাইলে আপনার সার্ভার থেকেই সব পরিচালনা করতে পারবেন। এই আপদের কি দরকার?


সত্যি বলতে দরকার আছে। খেয়াল করুন, আপনি যখন আপনার বাড়ি থেকে বাইরে যান তখন কি সব দরজা বা জানালা খোলা রেখে যান? নিশ্চয় নয়, কোনো পাগলও এই কাজ করে না। এতে করে আপনার বাড়িতে থাকা জিনিসপত্র, টাকা-পয়সা, সোনাদানা ইত্যাদি কেউ চুরি করে নিয়ে যেতে পারে। তাই এই ভয়ে আমরা তালা-চাবির ব্যবহার করে থাকি। তাই নয় কি?


তাহলে ইন্টারনেট দুনিয়ায় যে বাড়িটা আপনি বানালেন তার তালা-চাবি আপনাকে কে দেবে? কে ২৪ ঘন্টা নজরদারী করবে আপনার বাড়ির প্রতি? আপনি দেদারছে ঘুমুচ্ছেন ওইদিকে আপনার বাড়ি উধাও। কেমন হবে বলুন তো?


তাই ইন্টারনেট দুনিয়ায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আপনাকে তালা-চাবি দিয়ে থাকেন। আর এইসব প্রতিষ্ঠানকে ভিন্নভাবে বলা যায়, “CDN (Content Delivery Network)” । এইসব প্রতিষ্ঠান আপনাকে নিরাপত্তা দেবে ইন্টারনেট জগতে। এদের মধ্যে পরিচিত বা জনপ্রিয় কিছু নাম হচ্ছে,

১. StackPath

২. Sucuri

৩. Cloudflare

৪. KeyCDN

৫. Rackspace

৬. Google Cloud CDN

৭. CacheFly

৮. Amazon CloudFront


এই সমস্ত নেটওয়ার্ক বা প্রতিষ্ঠানকে CDN (Content Delivery Network) নেটওয়ার্ক বলা হয়। যা আপনার ডোমেইন (ঠিকানা) এবং সার্ভার (বাড়ি) এর মধ্যে একটি সুন্দর সম্পর্ক টেনে দেয়। এখন হয়তো ভাবছেন, বেশ তো! তালা-চাবি মিলে গেছে… ১ মিনিট! এই সমস্ত CDN ফ্রি নয়, এসবের জন্য আপনাকে টাকা দিতে হবে।


৩. CloudFlare কেন ব্যবহার করবেন?

অন্যান্য CDN (Content Delivery Network) যখন টাকা নিচ্ছে ঠিক তখন ঐ সমস্ত ফিচার CloudFlare আপনাকে ফ্রি-তে দিচ্ছে। আর ঠিক এজন্যই CloudFlare হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়, CloudFlare পৃথিবীর একাধিক জায়গায় অনেকগুলো সার্ভার বসিয়ে রেখেছে। তাই যখন কোন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে চান তখন খুব দ্রুত CloudFlare আপনার ওয়েবসাইট তার কাছে ওপেন করে দেয়।


কীভাবে? এই যে একটু আগে বললাম… CloudFlare এর একাধিক সার্ভার পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। এখন আপনি যে সার্ভার বাংলাদেশ থেকে চালাচ্ছেন সেই সার্ভারে অ্যামেরিকা থেকে আসতে কোন এক ভিজিটরের একটু বেশি সময় তো লাগবেই। তাই CloudFlare ঐ ভিজিটর কে তাদের নিকটস্থ সার্ভার দিয়ে বা অ্যামেরিকায় থাকা সার্ভার দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে আপনার ওয়েবসাইট দেখাবেন।


আর এতে করে আপনার ওয়েবসাইটের গতিও বেড়ে যাবে। একই সাথে আপনার ওয়েবসাইট যদি হয় লেনদেন ভিত্তিক তাহলে CloudFlare আপনার ক্যানেকশন কে করে দেবে সিকিউর; “HTTP” থেকে “HTTPS” করে দেবে।


৪. CloudFlare ও SSL Certificate

আপনার ঠিকানা এবং বাড়ির যদি দলিল আপনার নামে না থাকে তবে সেটা কি আপনার বাড়ি বলে মানা যায়? নিশ্চয় নয়। ঠিক তেমনি SSL Certificate হচ্ছে, আপনার ইন্টারনেট দুনিয়ায় থাকা ঠিকানা এবং বাড়ির একটি দলিল। আর “HTTPS” ক্যানেকশন সেটা অটোমেটিক আপনাকে সেই সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়।


হ্যাঁ, আমাদের সার্ভারও SSL Certificate দিয়ে থাকে। কিন্তু ফ্রি-তে নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরজন্য আপনাকে প্রতি মাসে বা প্রতি বছরে কিছু টাকা গুণতে হয়। তবে CloudFlare আপনাকে এই সেবাও ফ্রি-তে দিচ্ছে।


৫. CloudFlare এবং DNS (Domain Management System)

আমাদের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থা আমাদের একটি IP (Internet Protocol) দিয়ে থাকেন। ঠিক ঐ IP (Internet Protocol) দিয়ে আমরা আমাদের ইন্টারনেট ঠিকানায় প্রবেশ করতে পারি এবং পরিচালনা করতে পারি।


তবে DNS (Domain Management System) নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই অনুচ্ছেদ অনেক দীর্ঘ হবে। সংক্ষেপে আমরা আমাদের ডোমেইন নেম নির্দিষ্ট কোনো IP (Internet Protocol) -এ পয়েন্ট করতে পারি। এতে করে আমাদের উক্ত ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে পারবো।


অনেকে আছেন, পুরো ঠিকানা লিখে সার্চ করনে না। অথবা, “www” ছাড়াই সার্চ করেন। কিন্তু এতে করেও আপনাকে সঠিক ঠিকানায় CloudFlare পৌঁছে দেবে। যদি আপনি DNS (Domain Management System) -এ গিয়ে “www” ছাড়াই আপনার ডোমেইন নেম পয়েন্ট করেন।


যেমন ধরুন, আমার ওয়েবসাইটের ঠিকানা হচ্ছে, “www.backspace-journal.com” কিন্তু আপনি গুগলে বা যে কোনো সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করলেন “backspace-journal.com” তবুও আপনাকে আমার ঠিকানাতেই পৌঁছে দেবে CloudFlare নেটওয়ার্ক।


৬. CloudFlare এবং Speed Optimization

CloudFlare বেশ কিছু ফিচার রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে “Rocket Loader” । এর কাজ কি? এর কাজ হলো, যতক্ষণ আপনার ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে এসে স্ক্রল না করছে ততক্ষণ ছবি দেখানো বন্ধ থাকবে। স্ক্রল করা মাত্র-ই ছবি দেখানো শুরু হবে। এতে করে আপনার ওয়েবসাইটের গতি বৃদ্ধি পাবে।


“Auto Minify” - দারুণ একটি অপশন, যা CloudFlare ফ্রি-তেই আমাদের দিচ্ছে। এখানে আপনি আপনার সমস্ত “CSS, JavaScript, HTML” ফাইল কমপ্রেসড্ করতে পারবেন। এতে করে আপনার ওয়েবসাইটের গতি অনেক বৃদ্ধি পাবে। তবে বিজ্ঞাপন বা গুগল অ্যাডসেন্সের ক্ষেত্রে এই অপশন ব্যবহার না করাই ভালো। আপনার রেভেনিউ/ইনকাম কমে যেতে পারে।


৭. CloudFlare এবং হ্যাকার

অনলাইন জগতে হ্যাকিং শব্দ নতুন নয়। হ্যাকার’রা সবসময় চেষ্টা করবে আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক করতে। এই জন্য CloudFlare এর দূর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখা যায়। যদি কোনো হ্যাকার আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক করতে চেষ্টা করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে উক্ত IP (Internet Protocol) ব্লক করে দেওয়া হয়।


এছাড়াও অনেকগুলো অপশনের মধ্যে পাচ্ছেন ই-মেইল ফরওয়ার্ডিং, Early Hints, Ddos (Distributed Denial of Service) Protection ইত্যাদি। তবে আপনার ওয়েবসাইটে নিতান্তই কম ভিজিটর হলে CloudFlare প্রথমদিকে ব্যবহার না করাই ভালো।


বেশি ভিজিটরের ক্ষেত্রে আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ দিয়ে CloudFlare চালিয়ে নেয়। কিন্তু কম ভিজিটর হলে গতি উল্টো কমে যেতে পারে। কারণ, আপনি যে কপি চাইছেন তা CloudFlare কে মূল সার্ভার থেকে এনে আপনাকে দেখাতে হয় এজন্য।



পরিশেষ

CloudFlare ভালো বা মন্দ যাচাই করার আমি কেউ নই। কিন্তু CloudFlare আমাদের এত সুযোগ যখন বিনামূল্যে দিচ্ছে তখন একবার ট্রাই করাতে অন্যায় নেই। তবে অবশ্যই Nameserver ও DNS Management সম্পর্কে না জেনে হুট করে CloudFlare -এ যুক্ত হওয়া বোধহয় উচিত নয়।


আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।


আরও পড়ুনঃ ওয়েবসাইটে সাইটম্যাপ (Sitemap) এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানুন