গাড়ী বীমা কেনো করবেন? এটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানুন

১৮৯৬ সালে  যুক্তরাজ্যে গাড়ির বীমা প্রথম চালু হয়েছিল। জাপানে, টোকিও মেরিন এবং নিচিডো ইন্স্যুরেন্স প্রথম বিক্রি শুরু করে ১৯১৪ সালে। পরবর্তীতে  বিশ্বযুদ্ধের আগে, অটোমোবাইলের সংখ্যা কম ছিল এবং অটোমোবাইল বীমার ওজন ছিল খুবই কম। ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি পরে মোটরাইজেশনের সাথে, ট্রাফিক দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণের প্রয়োজনীয়তা একটি জরুরী বিষয় হয়ে ওঠে। এই সময়ে, বীমার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়।

গাড়ী বীমা কেনো করবেন? এটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানুন
গাড়ী বীমা কেনো করবেন? এটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানুন

সভ্যতার সাথে চাকার সম্পর্ক অঙ্গাঅঙ্গি। চাকা আবিস্কারের পর মানুষের যোগাযোগে এক অসাধারণ গতি পায়। তবে নেতিবাচক দিক হিসেবে চাকার গাড়িতে অনেক মানুষ দূর্ঘটনারও শিকার হয়।


গাড়ি ও মালিকের সকল ধরণের ক্ষতি বা বিপর্যয় রক্ষার জন্য চালু হয় বীমা। যেটি মোটর বা অটো বীমা হিসেবে পরিচিতি পায়। এর প্রধান ব্যবহার হচ্ছে ট্র্যাফিক সংঘর্ষের ফলে শারীরিক ক্ষতি বা শারীরিক ক্ষতির বিরুদ্ধে আর্থক সুরক্ষা প্রদান এবং দায়বদ্ধতার বিরুদ্ধে যা একটি গাড়ির ক্ষেত্রে ঘটতে পারে।


যানবাহন বীমা এছাড়াও গাড়ীর চুরি বিরুদ্ধে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করতে পারে, এবং ট্র্যাফিক সংঘর্ষের মত ইভেন্টগুলি থেকে বাঁচানো গাড়ির ক্ষতির বিরুদ্ধে যেমন, কীজিং, আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি, এবং স্থির বস্তুগুলির সাথে সংঘর্ষের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতি।


গাড়ির বীমা নির্দিষ্ট শর্তাবলী প্রতিটি অঞ্চলে আইনী প্রবিধান সঙ্গে পরিবর্তিত।


ইতিহাস

১৮৯৬ সালে  যুক্তরাজ্যে গাড়ির বীমা প্রথম চালু হয়েছিল। জাপানে, টোকিও মেরিন এবং নিচিডো ইন্স্যুরেন্স প্রথম বিক্রি শুরু করে ১৯১৪ সালে। পরবর্তীতে  বিশ্বযুদ্ধের আগে, অটোমোবাইলের সংখ্যা কম ছিল এবং অটোমোবাইল বীমার ওজন ছিল খুবই কম।


১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি পরে মোটরাইজেশনের সাথে, ট্রাফিক দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণের প্রয়োজনীয়তা একটি জরুরী বিষয় হয়ে ওঠে।


এই সময়ে, বীমার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়, ১৯৭০ সালে এর দশকে, যখন বাধ্যতামূলক অটোমোবাইল দায় বীমার সাথে মিলিত হয়, নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স বাজারে অটোমোবাইল বীমার ওজন এমন পরিমাণে বৃদ্ধি পায় যে প্রিমিয়াম মোটের ৫০ অতিক্রম করে।


যদিও তারপর থেকে এই শতাংশ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, এটি এখন জাপানের নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স বাজারে একটি কেন্দ্রীয় পণ্য।


মোটর বীমার শর্তাবলী

যেসব কারণে মটর বীমার গ্রাহকরা সেবা পেয়ে থাকে। শর্তগুলো হলো- মানবসৃষ্ট বিপর্যয় যেমন চুরি, ধর্মঘট, দাঙ্গা, সন্ত্রাস, বিস্ফোরণ ইত্যাদি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন টাইফুন, ভূমিকম্প, বন্যা, আগুন, বজ্রপাত, ঝড় ইত্যাদি।


তৃতীয় পক্ষের আইনি দায়বদ্ধতা সড়ক, রেল, বিমান বা নৌপথে ট্রানজিটের সময় গাড়ির বিভিন্ন ধরন এই বীমার মাধ্যমে ব্যক্তিগত গাড়িরর বিভিন্ন ক্ষতির বিরুদ্ধে কাভারেজ দেয়। সকল গাড়ি মালিকদের জন্য এই বীমা বেশ কার্যকরী।


কারণ বর্তমান বিশ্ব অনেক সভ্য হয়েছে তবে রাস্তায় এখনো নিয়মিত দূর্ঘটনা ঘটে। ফলে একটি বীমা থাকলে নিজের শখের অন্যতম জিনিস গাড়ি বেশ ভালোভাবে রক্ষা হবে। তবে এই বীমার প্রিমিয়াম নির্ভর করে মূলত গাড়ির দামের উপর।


এছাড়া গাড়িটি কোন দেশে তৈরি হয়েছে ও পরবর্তীতে গাড়িটি কোথায় এসে বিক্রি হচ্ছে।


টু হুইলার বীমা

টু হুইলার বীমা হলো দুই চাকার গাড়ির বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি থেকে মালিকদের রক্ষা করে। গাড়ি কেনার শুরুতেই এই বীমার নিবন্ধন করতে হয়। এই বীমার প্রিমিয়াম কিছুটা বেশি হয়।


এতে গ্রাহকদের আগ্রহ কম থাকে। তবে এটির কার্যকারীতা বেশ ভালো। তৃতীয় পক্ষের বীমা নাম অনুসারে এই পলিসি গাড়ি বা বীমাকৃতের ক্ষতির ফলে সৃষ্ট ক্ষতি কভার করে না। এটি দুর্ঘটনায় আহত তৃতীয় ব্যক্তিকে কভার করে।


থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স আপনার গাড়ি ব্যবহার করার সময় শুধুমাত্র তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি- মৃত্যু, শারীরিক আঘাত এবং তৃতীয় পক্ষের সম্পত্তির ক্ষতির কারণে উদ্ভূত আপনার আইনি দায় কভার করে।


তৃতীয় পক্ষের বীমা থাকা আপনাকে তৃতীয় পক্ষের দায় থেকে উদ্ভূত যেকোনো আইনি প্রতিক্রিয়া থেকে দূরে রাখে। এই বীমাও অনেকে করতে চান না। তবে বিভিন্ন দেশে এই বীমার নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


ব্যাপক বীমা

এই ধরনের বীমা যা তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি/ক্ষতি সহ বীমাকৃত গাড়ির বা শারীরিক আঘাতের মাধ্যমে বিমাকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কভার প্রদান করে। এই স্কিমটি চুরি, আইনি দায়, ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা, মনুষ্যসৃষ্ট/প্রাকৃতিক বিপর্যয় ইত্যাদির কারণে গাড়ির ক্ষতিও কভার করে।


বাণিজ্যিক যানবাহন বীমা

এগুলি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এ বীমা কার্যকরী। এই নীতিটি টেম্পোস, ট্রাক ইত্যাদির মতো পণ্য বহনকারী সমস্ত গাড়ির জন্য কভার প্রদান করে।


একটি বাণিজ্যিক যানবাহন বীমা তৃতীয় পক্ষের দায়বদ্ধতার কারণে হতে পারে এমন আর্থিক ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করে৷ এটি আপনার নিজের গাড়ির ক্ষতির জন্যও অর্থ প্রদান করে।


বীমার প্রয়োজনীয়তা –

ব্যক্তিগত সুরক্ষা

বর্তমান বিশ্বের গতির সাথে চলতে যে কোনো সময় দূর্ঘটনার শিকার হতে হয় মানুষকে। সেদিক থেকে বীমা নিবন্ধন করা থাকলে ক্ষতি থেকে অনেক বেশি লাভভান হওয়া যায়।


আবার দূর্ঘটনার সময় অনেক সময় খুব বেশি মেডিকাল সাপর্টের প্রয়োজন হয়। বীমা কোম্পানির আওতায় অনেক মেডিকেল থাকে তাদের জন্য বেশ সুবিধা পাওয়া যায়।


পারিবারিক সুরক্ষা

দুই চাকা থেকে শুরু করে চার চাকা সব গাড়িতে মানুষ পরিবারসহ চলাফেরা করে। তাই দূর্ঘটনার কবলে পড়লে পরিবারের সবাই অনেক সময় পড়ে তাতে একটি পরিবারের সম্পূর্ণ আয় বন্ধ হয়ে যায়।


ফলে পরিবারের পক্ষে সেময় অতিবাহিত করা চাপ হয়ে যায়। এ সময় একটি গাড়ির বীমা বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।


সার্বিক সুরক্ষা

একবিংশ শতকে মানুষের ব্যস্ততা যেমন বেড়েছে। রাস্তায় নানা ধরনের গাড়ি বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। এছাড়া দ্রুত সময়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে মানুষ যাওয়ার জন সবচেয়ে বেশি গতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছে। এতে প্রতিনিয়ত নানা ভাবে মানুষ দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে।


পরিশেষ

সার্বিকভাবে নিজের ও সবার সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত-মোটর বীমার বিকল্প নেই। কারণ মানুষের জীবনে যেকোনো সময় দূর্ঘটনা আসতে পারে। সেটির জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকা ভালো।


এছাড়া খারাপ সময় আসলে জীবন একদম এলোমেলো হয়ে যায়। তাই সকলের উচিত দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে মোটর বীমা করা।


আরও পড়ুনঃ জীবন বীমা কি? কেনো প্রয়োজন বিস্তারিত জানুন