গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ডিজেবল? আপিল করে ফিরিয়ে আনুন!

আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না যে কেন আমাদের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হলো। বুঝতে পারি না এর পরবর্তী পদক্ষেপ কি নেওয়া উচিত। ফলে গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে তখন আমাদের নানা প্রশ্ন আসে মনের মধ্যে। আর আমরা সেগুলো খুঁজতে থাকি। আজ গুগল এডসেন্স সম্পর্কে তেমনই বেশকিছু প্রশ্ন এবং তার উত্তর নিয়েই আমাদের আজকের লেখাটি।

গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ডিজেবল? আপিল করে ফিরিয়ে আনুন!
গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ডিজেবল? আপিল করে ফিরিয়ে আনুন!

আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না যে কেন আমাদের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হলো। বুঝতে পারি না এর পরবর্তী পদক্ষেপ কি নেওয়া উচিত। ফলে গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে তখন আমাদের নানা প্রশ্ন আসে মনের মধ্যে। আর আমরা সেগুলো খুঁজতে থাকি। আজ গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে তেমনই বেশকিছু প্রশ্ন এবং তার উত্তর নিয়েই আমাদের আজকের লেখাটি।


সাধারণত গুগল বিজ্ঞাপনদাতাদের সুরক্ষিত রাখতেই কিছু নিয়মভঙ্গকারী অ্যাকাউন্টের উপর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। আর এই বিষয়গুলো নিয়েই আমরা সাধারণত নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকি। তার মধ্যে ভুল ট্রাফিক একটি অন্যতম সমস্যা।


এই ভুল ট্রাফিকের জন্য অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া সম্পর্কে বেশ কিছু প্রশ্ন সম্পর্কে আলোচনা করা হল।


অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয় কেন?

গুগলের মালিকানা শনাক্তকরণ সিস্টেমকে সুরক্ষিত রাখতে এই বিষয়ে জড়িত থাকতে পারে এমন পৃষ্ঠা, ব্যবহারকারী বা থার্ড-পার্টি পরিষেবা সহ প্রকাশকদের অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভিটি সম্পর্কে কোনও তথ্য জানা সম্ভব নয়।


তবে গুগল ভুল ট্রাফিকের বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে থাকে। আর এজন্যই বিজ্ঞাপনদাতার খরচ বা প্রকাশকের উপার্জনকে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে কি না বা ইম্প্রেশন ব্যবহারের নির্দিষ্ট প্যাটার্ন মেনে চলছে কিনা তা জানতে খুব সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে এবং সেগুলি বিশ্লেষণ করে দেখে।


কোনও অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট দ্বারা গুগল বিজ্ঞাপনদাতাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে গুগল বিজ্ঞাপনদাতার স্বার্থ রক্ষা করতে সেই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়।


এজন্য প্রত্যেক ওয়েবসাইট প্রকাশককে ভুল ট্রাফিকের জন্য অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার যে সাধারণ কারণগুলি আছে সেই সম্পর্কে ভালো করে জানা উচিত।


আর সব শেষে গুগল তার নিয়ম এবং শর্তাবলী অনুযায়ী বিবেচনার ভিত্তিতে ট্রাফিক ভুল কিনা তা নির্ধারণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।


বন্ধ অ্যাকাউন্ট পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি?

আপনি যদি ইচ্ছে করে এই ভুল ট্রাফিকের কাজটি করে না থাকেন বা আপনার দায়িত্বে থাকা কেউই এই নীতি লঙ্ঘন না করে থাকে তাহলে আপনি গুগলের অবৈধ অ্যাক্টিভিটি সংক্রান্ত আপিল ফর্ম ব্যবহার করে একটি আপিল করতে পারেন।


তবে একটা কথা মনে রাখবেন, আপনার অ্যাকাউন্টি যে আপনি ফিরে পাবেনই সেই বিষয়ে কিন্তু কোনও নিশ্চয়তা নেই। আর একটি বিষয় হলো সেই আপিলের ব্যাপারে একবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে আর কোনও আপিল বিবেচনা করা নাও হতে পারে। সেজন্য আপনাকে প্রথম থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে।


সঠিক ভাবে আপিল করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় -

১. সাধারণ কারণগুলো পর্যালোচনা করা

প্রথমে আপনাকে ভুল ট্রাফিকের জন্য অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার যে সাধারণ কারণগুলি আছে তা পর্যালোচনা করতে হবে। দেখতে হবে এই কারণগুলির মধ্যে কোনও একটিও কি আপনার বা আপনার কন্টেন্টের ক্ষেত্রে হয়েছে?


অথবা আপনার বন্ধুরা কি আপনার বিজ্ঞাপনগুলিতে অনেকবার ক্লিক করেছেন? বা আপনি কি এমন ট্রাফিক কিনেছেন যা ভুল ট্রাফিকের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে? এই বিষয়গুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে।


২. সঠিকভাবে বিজ্ঞাপন প্রয়োগ করা হয়েছে কি না

আপনার ডেস্কটপ ও মোবাইল সাইট অথবা মোবাইল অ্যাপে বিজ্ঞাপন কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তা পর্যালোচনা করতে হবে। আপনাকে দেখতে হবে ব্যবহারকারীরা কীভাবে আপনার সাইট বা অ্যাপ ঘুরে দেখে!


ভুলভাবে বিজ্ঞাপন প্রয়োগ করার ফলে ব্যবহারকারীরা বারবার ভুল করে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করছে নাতো! এই বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে।


৩. ই-মেইল আইডি

যে ইমেইল আইডি আপনার বন্ধ হয়ে যাওয়া গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টিতে ব্যবহার করেছিলেন সেটি আপিল ফর্মে লিখতে হবে। এর ফলে গুগল সহজেই আপনার অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করতে পারবে। আর কম সময়ের মধ্যেই সেই আবেদনের কাজগুলো শুরু করতে পারবে।


৪. গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে আপনার কাজগুলো অবহিত করা

আপনার সকল কার্যক্রম অর্থাৎ কীভাবে আপনি বিজ্ঞাপনের প্রয়োগ করেছেন বা তা পরিবর্তন করেছেন, কীভাবে ট্রাফিকের উৎস খতিয়ে দেখেছেন ইত্যাদি সম্পর্কে গুগলকে জানাতে হবে।


এছাড়া আপনি ভবিষ্যতে কী কী পরিবর্তন করতে চান সেই সম্পর্কেও বলতে হবে। পরবর্তী সময়ে যেন একই ভুল আর না হয় তা নিশ্চিত করতে কী সিস্টেম ব্যবহার করছেন আপনি সেই সম্পর্কে জানাতে হবে।


আগের অ্যাকাউন্ট বন্ধের পর নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে কি?

গুগল ভুল ট্রাফিকের কারণে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া প্রকাশকরা আর কখনই গুগল অ্যাডসেন্সে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এজন্য এই প্রকাশকদের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে।


আর গুগল যে কোনও অ্যাকাউন্ট যেকোনও কারণে বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার রাখে। এর মধ্যে যেকোনও সোর্স থেকে আসা ভুল ট্রাফিকও অন্তর্ভুক্ত।


অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট বন্ধের পর অ্যাডসেন্স থেকে উপার্জন করা টাকা পাওয়া যাবে কি?

ভুল ট্রাফিক অথবা প্রকাশকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতি লঙ্ঘনের কারণে গুগল যেসব প্রকাশকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে তাদের উপার্জনের যে অংশটি বৈধ সেটির জন্য তারা চূড়ান্ত পেমেন্ট পেতে পারেন। এর জন্য গুগলের ৩০ দিন সময় লাগে।


৩০ দিন পরে আপনি কতটা পেমেন্ট পাবেন সেটা জানার জন্য অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করতে হবে এবং পেমেন্টের ব্যবস্থা করতে হবে। ভুল ট্রাফিকের জন্য উপার্জন থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে। আর সেই টাকা প্রভাবিত বিজ্ঞাপনদাতাদের ফেরত দেওয়া হবে।


গুগল অ্যাডসেন্স এর পাশাপাশি অন্য সাইটের বিজ্ঞাপন নেয়া যাবে কি?

গুগল অ্যাডসেন্সের প্রোগ্রাম নীতি, নিয়ম এবং শর্তাবলী মেনে চলে এমন যেকোনও সাইটে গুগল অ্যাডসেন্স প্রকাশকদের বিজ্ঞাপন পরিবেশন করার অনুমতি দিয়ে থাকে। এতে এই দুই সাইটের নীতি আলাদা হতে পারে।


তবে গুগল যদি বুঝতে পারে এটা যে অন্য প্রকাশকের অ্যাকাউন্ট গুগল অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপনদাতাদের ক্ষতি করতে পারে তাহলে বিজ্ঞাপনদাতাদের সুবিধার জন্য গুগল সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়।


এজন্য প্রকাশকের প্রথম থেকেই সকল নিয়ম নীতি মেনে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করে চলা উচিত। এক্ষেত্রে যেমন তাদের অ্যাকাউন্টটির কোনো ঝুঁকি থাকে না তেমনি তাদের আয়েরও সমস্যা হয় না।


আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে ব্যাকস্পেস জার্নালের সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ।


আরও পড়ুনঃ গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ ও সতর্কতা