গুগল ক্রোম: বিশ্বব্যাপী সকলের পছন্দের সবচেয়ে দ্রুতগতির ওয়েব ব্রাউজার

গুগল ক্রোম (Google Chrome) এর নাম শোনেনি এমনও কি হওয়া সম্ভব! এই স্মার্ট ফোনের যুগে এটা কোনো ভাবেই সময় নয়। আমরা সবাই এটি ব্যবহার করি। আর গুগল নিজেই এই ওয়েব ব্রাউজারটির মালিক বা স্বত্বাধিকারী তা এর নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে। গুগল ক্রোম হল একটি বিনামূল্যের ওয়েব ব্রাউজার। যার মাধ্যমে গুগল দ্বারা বিকাশিত ইন্টারনেটে ওয়েব পৃষ্ঠাগুলি অ্যাক্সেস করা হয়ে থাকে। 

গুগল ক্রোম: বিশ্বব্যাপী সকলের পছন্দের সবচেয়ে দ্রুতগতির ওয়েব ব্রাউজার
গুগল ক্রোম: বিশ্বব্যাপী সকলের পছন্দের সবচেয়ে দ্রুতগতির ওয়েব ব্রাউজার

গুগল ক্রোম বিশ্বব্যাপী সকলের সবচেয়ে পছন্দের একটি ওয়েব ব্রাউজার। স্ট্যাটিস্তার তথ্য অনুসারে, এর জনপ্রিয়তা ২০২২ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ওয়েব ব্রাউজার মার্কেট শেয়ারের ৩৬% এরও বেশি। কিন্তু পরবর্তী তথ্য অনুসারে গুগল ক্রোম ওয়েব ব্রাউজার মার্কেট শেয়ারের ৬২% এরও বেশি।


গুগল ক্রোম

গুগল ক্রোম এমন একটি ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ব্রাউজার যা বিভিন্ন কম্পিউটার, মোবাইল ডিভাইস এবং অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করে। এই ব্রাউজারটি ক্রোমিয়াম ওয়েব ব্রাউজার কে বেইজ করে তৈরী করা হয়েছে। তাহলে ক্রোমিয়াম কি?


ক্রোমিয়াম হলো ওপেন সোর্স ওয়েব ব্রাউজার। গুগল এই ক্রোমিয়াম ওপেনসোর্স ব্রাউজারের প্রকল্পটি শুরু করে গুগল ক্রোম ব্রাউজারকে স্টেবলভাবে তৈরী করার জন্য।


গুগল ক্রোম এবং ক্রোমিয়াম এই দুটি ব্রাউজার একে অপরকে তাদের বেশিরভাগ কোড ও ফিচারসমূহ শেয়ার করে থাকে। যদিও এই দুই ব্রাউজারের মধ্যে ফিচার, লোগো এবং লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।


গুগল ক্রোমের ইতিহাস

গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী ছিলেন এরিক এমারসন। তিনি একটি ওয়েব ব্রাউজার তৈরি করার জন্য ছয় বছর সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু তখনও গুগল ছিল খুবই ছোট একটি কোম্পানি। আর এ কারণেই এরিক এমারসন ওয়েব ব্রাউজারের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রবেশ করতে চাননি।


কিন্তু পরবর্তীতে সের্গেই ব্রিন ও ল্যারি পেইজ ব্রাউজার তৈরির জন্য ফায়ারফক্সের কয়েকজন ডেভেলপার নিয়ে ব্রাউজার ডেভেলপিং এর কাজ শুরু করলেন। খুব বেশি নয় মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁরা সাধারণ একটি ইন্টারফেস এবং শক্তিশালী ফাংশনালিটি নিয়ে গুগল ক্রোম দাড়িয়ে গেল।


আর এই সম্পূর্ণ বিষয়টি যখন এরিক এমারসনকে দেখানো হলো এবং এর শুরুটা এতো ভালো দেখে তিনি তার সিদ্ধান্ত বদলে দিয়ে ব্রাউজার বাজারে প্রবেশ করলেন। প্রতিনিয়তই গুগল তাদের এই ব্রাউজারে নিত্য নতুন ফিচার যোগ করে চলেছেন।


গুগল ক্রোমের ব্যবহার

অন্যান্য ওয়েব ব্রাউজারের মতো গুগল ক্রোমেও ব্যাক অপশন, ফরোয়ার্ড অপশন, রিফ্রেশ অপশন, ইতিহাস, বুকমার্ক, টুলবার এবং সেটিংসের মতো মৌলিক বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও গুগল ক্রোমে রয়েছে অন্যান্য ব্রাউজারগুলির মতো একটি ছদ্মবেশী মোড।


যেখানে আপনি আপনার ইতিহাস, কুকিজ বা সাইটের ডেটা ট্র্যাক না করেই ব্যক্তিগতভাবে ব্রাউজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। শুধু তাই নয় এখানে প্লাগইন এবং এক্সটেনশনগুলির একটি বিস্তৃত লাইব্রেরিও অন্তর্ভুক্ত।


১. দ্রুত গতি

গুগল ক্রোম ডিজাইন করা হয়েছে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের কথা চিন্তা করে। তাই এটি জিমেইল এবং ফেসবুক এর মতো ওয়েবসাইটগুলির কাজ করে থাকে। তবে এর কাজ করার ক্ষমতা বিশেষ করে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য।


২. ঠিকানা বার ব্যবহার

গুগল ক্রোমে ঠিকানা বার ব্যবহার করা যায়। কোনো কিছু খোঁজার জন্য শুধু একটি নতুন উইন্ডো বা ট্যাব খুলে ঠিকানা বারে লিখে অনুসন্ধান করলেই ঐ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুগল অনুসন্ধান ফলাফল পৃষ্ঠাটি দেখাবে।


৩. সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়

আপনারা গুগল অ্যাকাউন্টের সাথে ক্রোম ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনার সমস্ত বুকমার্ক, ইতিহাস, পাসওয়ার্ড, অটোফিল বা প্রয়োজনীয় সকল কিছু সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে রাখতে পারেন৷ অর্থাৎ আপনি যখন অন্য কোনো কম্পিউটার বা ডিভাইসে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্রোম ব্যবহার করবেন তখন আপনার সেটিংস সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আপডেট থাকবে।


৪. নিরাপত্তা

গুগল ক্রোমের বিভিন্ন সরঞ্জাম আপনাকে ভার্চুয়াল জগতে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে থাকে। এটি নিয়মিত আপডেট হয় সেজন্য বিভিন্ন সমস্যা থেকে আপনি সুরক্ষিত থাকেন।


কারণ আপনি একটু লক্ষ করলেই দেখবেন যে, যখনই আপনি এমন কোনো পেইজে প্রবেশ করেন যেখানে কোনো বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখনই ক্রোম আপনাকে একটি সতর্কতা দেখিয়ে থাকে।


আজ এই পর্যন্তই। আবারও নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের কাছে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং ব্যাকস্পেস জার্নালের সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ।


আরও পড়ুনঃ গুগল সার্চ কনসোল: ওয়েবসাইটের যাবতীয় তথ্য পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম