গ্রীন ভ্যালী পার্ক: নাটোরের সবচেয়ে আর্কষণীয় পর্যটন কেন্দ্র

বনলতা সেন, রানী ভবন, উত্তরা গণভবন, চলনবিল, মিনি কক্সবাজার পাটুল ইত্যাদির নাম শোনেননি এমন কেউ কি আছেন? আর হ্যাঁ, কাচাগোল্লার খ্যাতিও কিন্তু কম নয়। এই সবগুলোর জন্যই দেশবাসীর কাছে বিখ্যাত হয়ে আছে নাটোর। আর এই নাটোরের আরও একটি চমক হল নাটোরের গ্রীন ভ্যালী পার্ক। এই গ্রীন ভ্যালী পার্কের আকর্ষণীয় সব তথ্য নিয়েই হাজির হয়েছি আজ।

গ্রীন ভ্যালী পার্ক: নাটোরের সবচেয়ে আর্কষণীয় পর্যটন কেন্দ্র
গ্রীন ভ্যালী পার্ক: নাটোরের সবচেয়ে আর্কষণীয় পর্যটন কেন্দ্র

মোটামুটি জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস সময়টাকে বাংলাদেশের মিলনমেলার মাস বলা যায়। কারণ এই সময়টা স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বন্ধু বান্ধব থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সহকর্মীরা অথবা পরিবার পরিজনদের সাথে একটু বিনোদনে মেতে ওঠা যেন এই দেশের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়ে।


এই সময়ে মানুষ বিভিন্ন স্থানে যায় তাদের সময়টুকু সুন্দর করে উপভোগ করার জন্য। আর এমনই একটি সুন্দর স্থান হিসেবে আপনারাও যেতে পারেন নাটোরের গ্রীন ভ্যালী পার্কে।


গ্রীন ভ্যালী পার্ক

সকল বয়সী মানুষদের চিত্তবিনোদনের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি নাম হলো গ্রীন ভ্যলী পার্ক। পিকনিক, বন ভোজন, শিক্ষা সফর অথবা গেট-টুগেদার এই সকল ভিন্ন নামের একই ধরনের অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্থানে হাজার হাজার মানুষের সমারোহ দেখা যায়।


আর এই পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে হলো নাটোরের গ্রীন ভ্যালী পার্কও তার নিজস্ব স্বকীয়তায় এক অন্যরকম নাম করে নিয়েছে।


গ্রীন ভ্যালী পার্ক নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় অবস্থিত। এটি জেলা শহর নাটোর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। একটি চমৎকার বিনোদন কেন্দ্র বলা হয় এই গ্রীন ভ্যালী পার্ককে (Green Valley Park) । গ্রীন ভ্যালী পার্ক প্রায় ১২৩ বিঘা জায়গার উপর নির্মিত।


এই গ্রীন ভ্যালী পার্কের সৌন্দর্য শুরু হয় গেট দিয়ে প্রবেশ করার পর থেকেই। প্রবেশ করেই দেখতে পাবেন পার্কের রাস্তাগুলো কত সুন্দর পরিপাটি করা। এর আশেপাশে ফুলের সমারোহ আর নানা গাছের বাহার।


এই পরিবেশটায় মনে করিয়ে দেয় এর নাম গ্রীন ভ্যালী পার্ক। চারদিকে সবুজে সবুজে ভরা। শুধু তাই নয়। এছাড়াও এখানে শিশু থেকে সকল বয়সের মানুষদের জন্য রয়েছে সকল ধরনের বিনোদন।


কী কী আছে গ্রীন ভ্যালী পার্কে?

আকর্ষণীয় রাইড

গ্রীন ভ্যালী পার্কটিতে সকল বয়সী দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইডের ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে পাবেন মিনি ট্রেন, বুলেট ট্রেন, নাগরদোলা, ম্যারিগো রাউন্ড, পাইরেট শীপ, হানি সুইং, স্পীডবোট, প্যাডেল বোট প্রভৃতি। এই সবগুলোতেই টিকিট কেটে উঠতে হয়। এগুলোর টিকিট মূল্য ৫০ টাকা।


ওয়েভ পুল

এছাড়াও পাবেন ওয়েভ পুল যা ৩০ একর জায়গায় জুড়ে তৈরি করা হয়েছে। একে নয়নাভিরাম লেকও বলা হয়। সত্যি বলতে এই ওয়েভ পুল, স্পীডবোট আর ঝাউবনের সমারোহে জায়গাটি এক অতুলনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে। আর এই ওয়েভ পুলে ঢুকতে জন প্রতি ১৫০ টাকা করে টিকিট কাটতে হয়। এখানেই শেষ নয়।


9D মুভি থিয়েটার

এই পার্কে আছে 9D মুভি থিয়েটার। যার সময় সীমা ৭ থেকে ৮ মিনিট। এখানে ঢুকতেও ৫০ টাকায় টিকিট কাটতে হয়। সর্বচ্চ ২ হলে তারা এই থিয়েটারে মুভি দেখান।


কৃত্রিম ঝর্ণা

এখানে অসাধারণ সুন্দর কৃত্রিম ঝর্ণা আছে। যা শুধু দেখতেই নয় বরং মনটাকেও ভিষণভাবে শান্ত করে। এখানে গেলে আপনারা আরও দেখবেন খুব সুন্দর সুন্দর মূর্তির মধ্যেও এমন কৃত্রিম কিছু সেট করা। এতে এই স্পটটাকে আরও অতুলনীয় করে তুলে।


পাহাড়ের চূড়ায় গোল চত্বর

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মণ্ডিত মনোরম পরিবেশের আরও একটি আকর্ষণীয় দৃশ্য হলো পাহাড়ের চূড়ায় একটি গোল চত্বর। এখানে ২০ টাকা মূল্যে টিকিট কেটে উঠতে হয়। এখানে উঠলে আপনারা পুরো গ্রীন ভ্যালী পার্কের দৃশ্যটি দেখতে পাবেন। যা সত্যিই খুব আকর্ষণীয়।


গ্রীন ভ্যালী পার্কের সুযোগ সুবিধা

গ্রীন ভ্যালী পার্কের বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা আছে। এসব সুযোগ সুবিধার মধ্যে শ্যুটিং স্পট, পিকনিক স্পট, এ্যাডভেঞ্চার রাইডস, কনসার্ট এন্ড প্লে গ্রাউন্ড, সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নামাজের স্থান, ডেকোরেটর, কার পার্কিং, ক্যাফেটেরিয়া, শপ, সভা-সেমিনারের স্থান, রেস্টুরেন্ট এবং আবাসিক ব্যবস্থা।


এখানে যারা বেড়াতে আসবেন বা পিকনিক করার জন্য আসবেন তাদের জন্য আছে বিশেষ ব্যবস্থা। তাদের জন্য এখানে রান্না করার ব্যবস্থা আছে। এই পিকনিক স্পটগুলোতে রান্না করার জন্য ৩ ধরনের ক্যাটাগরি রয়েছে।


১. ভিআইপি শেড

এখানে ১০০ জনের জন্য টেবিল এবং চেয়ারের ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও দুইটি রুমের ব্যবস্থা করা আছে যেখানে তারা ফ্রেশ হতে পারবে এবং ড্রেস চেঞ্জ করতে পারবে। এদের রান্নার জন্য শেড কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা করে দিবে। আর এই ভিআইপি শেডগুলোর ভাড়া হবে ১২,০০০ টাকা।


২. সাধারণ শেড

এই সাধারণ শেডে ৫০ জনের জন্য টেবিল এবং চেয়ারের ব্যবস্থা আছে। আপনারা যদি এর চেয়েও বেশি লোকের আয়োজন করতে চান তবে আপনাদের চেয়ার টেবিল নিজেদেরকে আনতে হবে। আর এখানে ফ্রেশ হওয়ার জন্য বা চেঞ্জ করার জন্য কোনো রুমের ব্যবস্থা নেই।


কিন্তু পার্কে সকলের জন্য ওয়াশরুমের ব্যবস্থা আছে। সেগুলো বেশ পরিষ্কার রাখা হয় সবসময়ই। এদেরও রান্নার জন্য শেড কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা করে দিবে। আর সাধারন এই শেডগুলোর ভাড়া হবে ৬,০০০ টাকা।


এই দুই শেডে চেয়ার টেবিল ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। তাই রান্নার জন্য বাবুর্চি থেকে শুরু করে সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিজেদেরই ব্যবস্থা করে আনতে হবে।


৩. সামিয়ানা শেড

সামিয়ানা শেডগুলো সামিয়ানা দিয়ে ঘেরা। এর জন্য কোনো টেবিল চেয়ারের ব্যবস্থা নেই। এর রান্না করার ব্যবস্থা করা হয়েছে আম বাগানের ভেতরেই। এগুলোর ভাড়া হবে ৩,০০০ টাকা।


এছাড়াও এই গ্রীন ভ্যালী পার্কে কেউ যদি বিশ্রাম নিতে চায় সেক্ষেত্রে এখানে ডরমেটরীর আ্যবস্থাও আছে। এখানে আপনারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্রাম করতে পারবেন। এর জন্য রুম প্রতি ২,০০০ টাকা দিতে হবে। তবে এর জন্য বেশ কিছু শর্তও আছে।


প্রবেশ টিকেটের মূল্য ও সময়সূচী

গ্রীন ভ্যালী পার্কে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা মূল্যে টিকিট কাটতে হয়। আর এই পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে চালু হয় এবং বিকাল ৫টা পর তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঋতু পরিবর্তনের সাথে পার্ক খোলার সময়সূচী পরিবর্তিত হয়।


গাড়ি পার্কিং ফি

১. বাস পার্কিং ফি ৩০০ টাকা।

২. মিনি বাস পার্কিং ফি ২০০ টাকা।

৩. কার পার্কিং ফি ১০০ টাকা।

৪. সিএনজি পার্কিং ফি ৫০ টাকা এবং

৫. বাইকের জন্য ২০ টাকা।


কীভাবে যাবেন?

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আপনারা বাস অথবা ট্রেনে করে নাটোরে আসতে পারেন। এর পর নাটোর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় আপনারা সিএনজি বা অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে এই গ্রীন ভ্যালী পার্কের আসতে পারবেন।


তাহলে আর দেড়ি কিসের! আপনারাও আপনাদের পরিবার বা কাছের অন্যান্য মানুষদের সাথে ঘুরে যেতে পারেন এই আকর্ষণীয় গ্রীন ভ্যালী পার্ক থেকে।


আরো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য ব্যাকস্পেস জার্নালের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।


আরও পড়ুনঃ সিলেটের অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি মাধবকুন্ড জলপ্রপাত