চুল পড়া বন্ধ এবং চুলকে আরও আকর্ষণীয় করুন

প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে অতি সহজেই হেয়ারপ্যাক, হেয়ারওয়েল তৈরী করে চুলের যত্ন নেয়া যায়। এতে চুলে ক্ষতিকর প্রভাব পরে না। তাই আজ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে কিভাবে চুলের যত্ন নেয়া যায় সেই সম্পর্কে জানাবো। নিম্নে এই সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

চুল পড়া বন্ধ এবং চুলকে আরও আকর্ষণীয় করুন
চুল পড়া বন্ধ এবং চুলকে আরও আকর্ষণীয় করুন

বর্তমানে আমরা প্রত্যেকেই চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। ত্বকের যত্ন নিয়ে ত্বককে লাবণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে থাকি তেমনি চুলেরও যত্ন নিলে চুল হবে ঝলমলে, স্বাস্থ্যজ্বোল, সুন্দর ও ঘন।


প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে অতি সহজেই হেয়ারপ্যাক, হেয়ারওয়েল তৈরী করে চুলের যত্ন নেয়া যায়। এতে চুলে ক্ষতিকর প্রভাব পরে না।


তাই আজ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে কিভাবে চুলের যত্ন নেয়া যায় সেই সম্পর্কে জানাবো। নিম্নে এই সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।


১. নারিকেল তেল

নারিকেল তেল চুলকে খুব ভালো ময়শ্চারাইজার করে। নারিকেল তেলে কয়েকটি মেথি দিয়ে ফুটিয়ে ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে তারপর শ্যাম্পু করলে চুল নরম হয়। চুলের গোড়া শক্ত ও হয়।


২. আমন্ড ওয়েল ও অলিভ ওয়েল

আমন্ড ওয়েলের সাথে অলিভ ওয়েল মিশিয়ে সপ্তাহে ২-৩ বার চুলে মাসাজ করলে, চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া অলিভ ওয়েলে থাকে এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড। যা চুলের পুষ্টি জোগায়। এতে আরও আছে ভিটামিন ই। যা চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।


তাই অন্তত সপ্তাহে একবার মাথার স্ক্যাল্পে এই অলিভ ওয়েল ব্যবহার করা উচিত।


৩. ক্যাস্টর ওয়েল

ক্যাস্টর ওয়েল চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। কারণ এতে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ক্যাস্টর ওয়েল চুলে দিয়ে সারারাত রেখে পরের দিন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়।


এছাড়া ক্যাস্টর ওয়েলের সাথে ভিটামিন ই বা অলিভ ওয়েল মিশিয়ে সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ বার মাখলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।


শুধু তেল মাসাজ করলেই হবে না। চুলকে সুন্দর মজবুত করতে নিয়মিত ব্যবহার করা উচিৎ হেয়ারপ্যাক। চুলের যত্ন নিতে হেয়ারপ্যাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


এজন্য সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার হেয়ারপ্যাক ব্যবহার করে ঘরোয়া উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া যেতে পারে।


চলুন কয়েকটি হেয়াপ্যাক সম্পর্কে জেনে নেই -

১.অ্যালভেরা হেয়ারপ্যাক

অ্যালভেরাতে থাকা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন আর মিনারেলস চুলের পুষ্টি যুগিয়ে চুলকে ঘন ও ঝলমলে করে তোলে। চুলের যত্ন নিতে অ্যালভেরার হেয়ারপ্যাক খুবই কার্যকরী।


পদ্ধতি

একটি পাত্রে ১ কাপ ফ্রেশ অ্যালভেরা জেল, ক্যাস্টর ওয়েল ২ চামচ এবং মেথি গুঁড়ো ২ চামচ এক সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে প্যাক তৈরী করে স্ক্যাল্পে এবং চুলে ভালো করে মাসাজ করে রেখে দিতে হবে সারারাত। পরদিন সকালে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনিং করতে হবে।


আর ভালো ফল পেতে এই হেয়ারপ্যাকটি সপ্তাহে ১ থেলে ২ বার ব্যবহার করতে হবে।


২. টকদইয়ের হেয়ারপ্যাক

এই হেয়ার প্যাকটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি তৈরি করতে টকদই, লেবুর রস এবং কয়েক ফোটা মধু লাগবে। এই উপকরণগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে একটা ঘন প্যাক তৈরী করে স্ক্যাল্পে এবং চুলে লাগিয়ে আধঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। ভালো ফল পেতে এটিও সপ্তাহে ২ বার করা যেতে পারে।


৩. পেপের হেয়ারপ্যাক

৪ থেকে ৫ চামচ পাকা পেঁপের জুস, ৩ চামচ অলিভ ওয়েল এবং এক কাপ অ্যালভেরা জেল একসঙ্গে মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরী করতে হবে।


এরপর স্ক্যাল্প এবং চুলের গোড়ায় ভালো করে মাসাজ করে ১ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। আর এই হেয়ারপ্যাকটি সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট লাভজনক।


উপরোক্ত হেয়ারপ্যাকগুলি নিয়মিত ব্যবহার করে চুলের যত্ন নেওয়া যায়। এতে আলাদা ভাবে কোথাও যেয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না। অতি সহজেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই যত্নগুলো নেয়া সম্ভব। কিন্তু সবগুলো হেয়ারপ্যাকই এক সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে না।


চুলের ধরণ অনুযায়ী যেটা সঠিক মনে হবে সেটাই ব্যবহার করতে হবে। আর এতে চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে স্বাস্থ্যজ্বোল। চুলের গোড়াকে করবে শক্ত এবং চুলের বৃদ্ধি হবে।


এছাড়াও প্রতিদিনের চুলের যত্নের কিছু রুটিন সাজানো উচিত। যেমন:

১. প্রতিদি সকালে ঘুম চুল আঁচড়াতে হবে। নাহলে চুলের জট থেকেই শুরু হবে চুলের ক্ষতি হওয়া।

২. বড়ো দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা উচিত। তানাহলে চুল আঁচড়ানোর সময় চুল ছিড়ে যাবে।

৩. নিয়মিত চুল পরিষ্কার করা। যাদের নর্মাল চুল তারা একদিন পর পর চুল ধুয়ে নিতে পারে । যাদের তৈলাক্ত চুল তাদের প্রতিদিন চুল ধুয়ে নিতে হবে।

৪. ভেজা চুল না আঁচড়ানোই ভালে। কারণ ভেজা চুল নরম থাকে তাই তখন চিরুনি করলে চুলের ক্ষতি হয়।

৫. যে শ্যাম্পুগুলো চুলকে নরম ও মসৃণ রাখে সেই শ্যাম্পুগুলো ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

৬. অকারণে হেয়ারড্রায়ার ব্যবহার না করাই ভালো। চুলে বারবার হিট নেওয়া , চুলে হেয়ার কালার করা, চুলের স্টাইল বা ফ্যাশনে অধিক কেমিক্যাল না ব্যবহার করাই ভালো। এতেও চুলের অনেক ক্ষতি হয়।


শুধু তেল বা হেয়ারপ্যাকই নয় সঙ্গে সঙ্গে খাবার রুটিনটাও ঠিক রাখতে হবে। খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে পানি। এতে চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে স্বাস্থ্যজ্বোল।


আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।


আরও পড়ুনঃ চোখের যত্নে কি কি করণীয়? বিস্তারিত জানুন