জার্মানির বিখ্যাত ৫ বীমা কোম্পানি সম্পর্কে জানুন

আলিনাজ হলো একটি জার্মান বহুজাতিক আর্থিক পরিষেবা সংস্থা। যার সদর দপ্তর জার্মানির বিখ্যাত শহর মিউনিখে। এই কোম্পানির মূল ব্যবসা হল বীমা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা। ২০২০ সালের ফোর্বস ম্যাগাজিনের একটি যৌগিক পরিমাপ অনুসারে বিশ্বের বৃহত্তম বীমা কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। দেশের রাজস্ব দ্বারা পরিমাপ করা হলে বৃহত্তম আর্থিক পরিষেবা সংস্থা। কোম্পানিটি ইউরো স্টক মার্কেট সূচকের একটি উপাদান।

জার্মানির বিখ্যাত ৫ বীমা কোম্পানি সম্পর্কে জানুন
জার্মানির বিখ্যাত ৫ বীমা কোম্পানি সম্পর্কে জানুন

ইউরোপের কলা, বিজ্ঞান ও শিল্প বিকাশের অন্যতম ভূমি হলো জার্মানি। যেখানে এক সময় গৃহযুদ্ধের ফলে দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে নিজেরা বিভিন্নভাবে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। পরবর্তীতে দুই জার্মানি এক হয়ে আবার নিজেদের ঐতিহ্য ফিরে পায়।


তবে সংকটকালীন সময়ে দেশের অনেক পরিবার নানা ভাবে আর্থিক সংকটে পড়ে। যখন বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সর্বোচ্চ ভাবে তাদের সহযোগীতা করেছে। আজ জার্মানির বিখ্যাত ৫টি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি নিয়ে আলোচনা করা হবে।


১. Allianz জার্মান

আলিনাজ হলো একটি জার্মান বহুজাতিক আর্থিক পরিষেবা সংস্থা। যার সদর দপ্তর জার্মানির বিখ্যাত শহর মিউনিখে। এই কোম্পানির মূল ব্যবসা হল বীমা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা। ২০২০ সালের ফোর্বস ম্যাগাজিনের একটি যৌগিক পরিমাপ অনুসারে বিশ্বের বৃহত্তম বীমা কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি পায়।


দেশের রাজস্ব দ্বারা পরিমাপ করা হলে বৃহত্তম আর্থিক পরিষেবা সংস্থা। কোম্পানিটি ইউরো স্টক মার্কেট সূচকের একটি উপাদান। এর সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, যা PIMCO, Allianz Global Investors এবং Allianz Real Estate নিয়ে গঠিত।


অ্যালিয়ানজ ২০০৮ সালের নভেম্বরে ড্রেসডনার ব্যাংককে কমার্জব্যাঙ্কের কাছে বিক্রি করে। এই লেনদেনের ফলস্বরূপ, আলিয়াঞ্জ নতুন কমর্জব্যাঙ্কে ১৪% নিয়ন্ত্রণকারী অংশীদারিত্ব অর্জন করেছে।


মিউনিখ পুনর্বীমা কোম্পানির তৎকালীন পরিচালক কার্ল ফন থিমে (এরফুর্টের বাসিন্দা, যার পিতা ছিলেন বীমা কোম্পানি থুরিংয়ির পরিচালক) এবং উইলহেলম ভন ফিঙ্ক। ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কোম্পানিটি বার্লিনে প্রতিষ্ঠিত হয়।


শুরুতে অ্যালিয়ানজ পণ্যগুলি ছিল সামুদ্রিক এবং দুর্ঘটনা নীতিগুলি প্রথমে শুধুমাত্র জার্মানিতে বিক্রি হয়েছিল, তবে ১৮৯৩ সালে কোম্পানিটি লন্ডনে তার প্রথম আন্তর্জাতিক শাখা অফিস খোলেন। এটি বিদেশে কভারেজ খুঁজছেন জার্মান গ্রাহকদের সামুদ্রিক বীমা কভারেজ বিতরণ করে।


পরবর্তীতে ১৯০০ সালে কোম্পানিটি কর্পোরেট পলিসি বিতরণের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রথম বীমাকারী হয়ে ওঠে। ১৯০৪ সালে পল ভন নাহের কোম্পানির একমাত্র নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, কারণ এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বাজারে চলে যায়।


১৯১৪ সালের মধ্যে প্রবেশ করা বাজারের মধ্যে নেদারল্যান্ডস, ইতালি, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ এবং বাল্টিক রাজ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং আলিয়ানজ জার্মানির বৃহত্তম সামুদ্রিক বীমাকারী হয়ে উঠেছে।


২. ARAG ইন্স্যুরেন্স

আরগ একটি ইউরোপীয় বৃহত্তম পারিবারিক মালিকানাধীন জার্মান বীমা গ্রুপ। যার সদর দফতর ডসেলডর্ফ-মারসেনব্রোইচের আরগ টাওয়ারে। গ্রুপটি ১৯৩৫ সালে ডয়েচে অটো-রেচ্টসচুটজ-এজি নামে আইনি বীমা কোম্পানি হিসেবে ডুসেলডর্ফের উদ্যোক্তা এবং অ্যাটর্নি হেনরিখ ফাসবেন্ডার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


সেই উদ্যোগের মাধ্যমে কোম্পানিটি লাভজনক ক্ষেত্রের দরজা খুলে দিয়েছিল। এই কোম্পানির বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গ্রুপটি ২০১১ সালে ১.৪৬৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক রাজস্ব প্রদান করে। যার পোর্টফোলিও ২০০৯ ব্যবসায়িক বছরে ৫.৮ মিলিয়ন পলিসি রয়েছে।


গ্রুপের আন্তর্জাতিক আইনি বীমা ব্যবসায় নিজেদের ২.৩ মিলিয়ন গ্রাহক রয়েছে। যা এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইনি বীমাকারী। ২০১৯ সালে গ্রুপের মোট বীমা ব্যবসা ছিল ৮ মিলিয়ন পলিসি, যার মধ্যে ৪.৪ মিলিয়ন জার্মানির বাইরে ছিল।


কোম্পানিটি লিগ্যাল ইন্স্যুরেন্স এর সীমানা ছাড়িয়ে আইনি বীমার সম্প্রসারণের পরে, কোম্পানিটি ১৯৬২ সালে বীমা শিল্পের অন্যান্য অংশে বিস্তৃত হয়। আইনি বীমার ব্যবসায়িক ধারণার বিপণন শুরু করে। পরে ১৯৬৫ সালে জীবন নিশ্চয়তা ব্যবসায় প্রবেশ করে এবং ১৯৮৫ সালে তার প্রথম স্বাস্থ্য বীমা পলিসি জারি করে, সেই বিভাগে অন্যান্য বীমা কোম্পানিগুলিকে অধিগ্রহণ করে।


এই সংস্থাগুলি মিউনিখে অবস্থিত। বছরের পর বছর ধরে অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনি বীমা কোম্পানিগুলি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আরএজি গ্রুপের এখন ১৪টি দেশে সহায়ক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


৩. ERGO (ERGO Group)

ERGO হল মিউনিখ রে-এর মালিকানাধীন বীমা কোম্পানিগুলির একটি গ্রুপ। ইউরোপের পুরানো ও বৃহত্তম বীমা গ্রুপগুলির মধ্যে অন্যতম একটি। দীর্ঘ সমঢ ধরে ইউরোপের মানুষকে বীমা সেবা দিয়ে এশিয়ার দিকেও নিজেদের ব্যবসা বাড়িয়েছে। আইনগত ব্যয় বীমা বিভাগে ১ নম্বর হওয়ার দাবি করে এবং জার্মানির হোম মার্কেটে এটি বাজারের নেতাদের মধ্যে রয়েছে।


কোম্পানির বর্তমান কর্মীর সংখ্যা রয়েছে ৪০ হাজারের অধিক। এই কোম্পানি জীবন বীমাসহ স্বাস্থ্য বীমা, নন-লাইফ এবং ক্যাজুয়ালিটি বীমা, আইনি খরচ বীমা, ভ্রমণ বীমা এবং আর্থিক সেবা প্রদান করে থাকে। কোম্পানির পেনশন স্কিম এবং মাঝারি আকারের ব্যবসার উপর ফোকাস করে।


৪. Generali Deutschland AG

জেনারেলিয়া হলো একটি জার্মান হোল্ডিং কোম্পানি। যা প্রায় ২০ টি বীমা কোম্পানি নিয়ে গঠিত। যাদের বিশ্ব ব্যাপী কর্মী সংখ্যা ১৫ হাজারের অধিক। আলিয়াঞ্জের পরে এটি জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম সরাসরি বীমা কোম্পানি। এর সদর দপ্তর মিউনিখে। কোম্পানিটি সম্পূর্ণরূপে ইতালীয় গ্রুপ Assicurazioni Generali এর মালিকানাধীন একটি কোম্পানি।


২০১৫ সালে নতুন করে কোম্পানির দায়িত্ব পান জিওভানি লিভরানি জেনারেলি। এটি মাদার কোম্পানি হিসেবে বীমার কাজ করে। যার ছত্রছায়ায় অসংখ্য বীমাকারী এবং আর্থিক পরিষেবা সংস্থা কাজ করছে।


এই কোম্পানিগুলি আর্থিক পরিষেবাগুলির সম্পূর্ণ স্পেকট্রামকে কভার করে, যেমন জীবন, স্বাস্থ্য, সম্পত্তি এবং আইনি ব্যয় বীমা, নির্মাণ অর্থায়ন, সেইসাথে তৃতীয় পক্ষের সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজের মতো অতিরিক্ত সমাধানগুলি।


২০১৫ সালের তথ্য অনুসারে জার্মানিতে জেনারেলির অপারেটিং ফলাফল ছিল ৭৯২ মিলিয়ন ডলার। দেশের ভিতরেই যাদের গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ মিলিয়ন।


৫. হ্যানোভার রে - Hannover Re

হ্যানোভার হলো জার্মানির পুরাতম অন্যতম একটি পুনর্বীমা সংস্থা। এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যাদের মোট আয়ের পরিমাণ ২৪ বিলিয়ন ডলার। জার্মানিতে ১৯৬৬ সালে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। যাদের কর্মীর সংখ্যা ৫ হাজারের অধিক।


বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশে ১৭০টির বেশি দেশে সহায়ক সংস্থা, শাখা এবং প্রতিনিধি অফিসের একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। পরবর্তীতে কোম্পানিটি মার্কিন এবং জাপানের বাজারে প্রবেশ করে। ১৯৮০ সালে প্রথম হ্যামবার্গার ইন্টারন্যাশনাল হয়ে নিজেদের কার্যক্রম আরো বেশি শক্তিশালী করে।


১৯৯৪ সালে কোম্পানিটি সর্বজনীন হয়ে যায়। একই বছরে, কোম্পানিটি পুঁজিবাজারের জন্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি সুরক্ষিত করার জন্য প্রথম পুনর্বীমাকারী ছিল।


পরিশেষ

বর্তমানে জার্মানিতে অসংখ্য বীমা কোম্পানি আছে। যাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এসব কোম্পানির মত নয়। তাই জার্মানির পুরাতন ও বিখ্যাত কোম্পানি বলতে আসলে তাদের বোঝায়। কারণ তারা দেশটির অর্তনীতির সাথে আনেক আগে থেকে জড়িত।


আরও পড়ুনঃ যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ৫টি বীমা কোম্পানি সম্পর্কে জানুন