টেলিপ্যাথি(Extrasensory Perception): সত্যিই কি কাজ করে! জানুন বিস্তারিত

টেলিপ্যাথি অথবা অতীন্দ্রিয় উপলব্ধি বা Extrasensory perception বলতে মনের বিশেষ ক্ষমতার মধ্যে দিয়ে তথ্য সংগ্রহকে বুঝানো হয়। এখানে শারীরিক কার্য্যকলাপের কোনো ভুমিকা তেমন নেই। অতীন্দ্রিয় উপলব্ধি বলতে আমরা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বা sixth sense কেও বুঝে থাকি।

টেলিপ্যাথি(Extrasensory Perception): সত্যিই কি কাজ করে! জানুন বিস্তারিত
টেলিপ্যাথি(Extrasensory Perception): সত্যিই কি কাজ করে! জানুন বিস্তারিত

সত্যি বলতে এটাকে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় বলা যেতে পারে! তাছাড়া আমার নিজেরও বিষয়টি খুব ভালো লেগেছে। আমাদের সাথে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যার কোনো ব্যাখ্যা আমরা দিতে পারি না।


যেমন আমরা অনেক সময় মনে মনে কারো কথা ভাবি। ঠিক তারপরই সেই ব্যক্তির ফোন বা হঠাৎ আগমন। এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটে আমাদের সঙ্গে। আজ এমনই কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলবো। যাকে বলা হয়, টেলিপ্যাথি


টেলিপ্যাথি কি?

টেলিপ্যাথি অথবা অতীন্দ্রিয় উপলব্ধি বা Extrasensory perception বলতে মনের বিশেষ ক্ষমতার মধ্যে দিয়ে তথ্য সংগ্রহকে বুঝানো হয়। এখানে শারীরিক কার্য্যকলাপের কোনো ভুমিকা তেমন নেই। অতীন্দ্রিয় উপলব্ধি বলতে আমরা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বা sixth sense কেও বুঝে থাকি।


টেলিপ্যাথির অর্থ

গ্রীক শব্দ টেলি এবং প্যাথিয়া শব্দ থেকে এসেছে এই টেলিপ্যাথি শব্দটা। আর এই টেলি শব্দের অর্থ হলো দূরবর্তী এবং প্যাথিয়া শব্দের অর্থ হলো অনুভূতি। অর্থাৎ টেলিপ্যাথি শব্দের অর্থ হলো দূরবর্তী অনুভূতি। সহজ ভাষায় যাক মন জানাজানিও বলা যেতে পারে।


কোন রকম সরাসরি সংস্পর্শ ছাড়া অন্য কারো মনের সাথে সংযোগ হওয়াকেই টেলিপ্যাথি বলা হয়। ১৮৮২ সালে ফ্রেডারিক ডব্লিউ এইচ মেয়ারস এটাকে প্রথম সামনে আনেন। এই দূরবর্তী অনুভূতি বা টেলিপ্যাথিক যোগাযোগকে প্যারা সাইকোলজীর একটা অংশবিশেষও বলা হয়।


আবার দেখা যায় যে, টেলিপ্যাথিকে অধিকাংশ বিজ্ঞজনই প্যারানরমাল ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। এটি এমন একটি বিষয় যার অস্তিত্ব বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক উভয় ক্ষেত্রেই আছে। তবে এর সম্পর্কে বিজ্ঞান এখনো নিশ্চিত কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারে নি।


তাই এটিকে বিতর্কিত বিষয় হিসেবেও দেখা যায়। এটিকে থট রিডিং বলেও অনেকে অভিহিত করে থাকেন। থট রিডিং মুলত মানুষের পেশি সঞ্চালন দ্বারা মুখ থেকে মনের ভাব বোঝার একটা প্রক্রিয়া। যেখানে দক্ষতাটাই বড়।


টেলিপ্যাথি সম্পর্কে কিছু তথ্য

কখনো কখনো দেখা যায় কোন ধরণের শারীরিক সংশ্লিষ্ঠতা ছাড়াই কোন জিনিস নাড়াতে পারা অথবা সাইকোমেট্রি বা কোন বস্তুকে স্পর্শ করে সেটা সম্পর্কে সব বলতে পারা।


অথবা মৃত্যু স্পর্শ বা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা অথবা বাইলোকেশান অর্থাৎ একই সময় দুই জায়গাই অবস্থান করা ইত্যাদি বিষয়গুলো আমরা অনেক মুভিতে বা বাস্তব জীবনেও কিছু দেখতে পাই। তখন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবাক লাগে না?


সত্যি বলতে আমার খুব মনে হয় কিভাবে এটা সম্ভব!


আসুন টেলিপ্যাথি সম্পর্কে কিছু অলৌকিক তথ্য জেনে আসি -

১. টেলিপ্যাথি ব্রেইন টু ব্রেইন ডাটা ট্রান্সফার

টেলিপ্যাথির সহজ উত্তর হল ব্রেইন টু ব্রেইন ডাটা ট্রান্সফার। যেমন বলা যায়, ঠিক যেমনটা আমরা শেয়ার ইট এর মাধ্যমে করে থাকি। আপনারা অনেকেই হলিউড এক্স ম্যান সিরিজের মুভিগুলা দেখে থাকবেন। যদি দেখেন তাহলে সেখানে প্রফেসর এক্স নামে একজনকে অন্য মানুষের মনের নিয়ন্ত্রন নিতে দেখা যায়।


আপনারা আবার ভাববেন না যে, মনের নিয়ন্ত্রণ নেয়াই টেলিপ্যাথি। কারণ শুধু মনের নিয়ন্ত্রণ নেয়াই টেলিপ্যাথি নয়। এটা টেলিপ্যাথির সামান্য একটা অংশ মাত্র।


২. টেলিপ্যাথি প্রমান

ইচ্ছাকৃত টেলিপ্যাথির প্রমান আজ পর্যন্ত মেলেনি। ওটা প্রফেসর এক্স আর এক্স ম্যান সিরিজেই সীমাবদ্ধ। এই পর্যন্ত প্রায় কয়েক হাজারের উপর মানুষ দাবি করেছেন যে তারা আরেকজনের মনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।


কিন্তু তারা কেউই  তা সরাসরি পরীক্ষায় দেখাতে পারেননি। তবে দুই একটা এমন উদাহরণ আছে যা সবাইকে চমকে দেয়। যেমন- ১৯৪৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে মূলতান দখলের সময় সেখানকার ইনচার্জ সেনাপতি মারাত্মকভাবে আহত হন। তিনি মারা যাবেন জেনে তার হাতের রিংটা পাশের সেনাদের কাছে দেন যেন তারা তার স্ত্রীর হাতে পৌছে দেয়।


১৫০ কিলোমিটার দূরে ফিরোজপুরে তার স্ত্রী ছিলেন। ঠিক ঐ সময়ই তার স্ত্রী একদম সেই একই বিষয়ই স্বপ্নে দেখেন! তিনি স্বপ্নে দেখেন তার স্বামী বলছেন যে, তার সেই রিংটা যেন তার স্ত্রীকে দেয়া হয়। এবং পরবর্তীতে এই সত্যতা প্রমাণিতও হয়। আর এই কেস এসপি আর ভেরিফাই করে সেই সত্যতার প্রমান পায়।


৩. টুইন টেলিপ্যাথি প্রমান

বলা হয়ে থাকে যে, দুটো যমজ বাচ্চাকে জন্মের পর থেকে যদি আলাদা করে দুইটা ভিন্ন দেশেও রাখা হয়। তাহলেও তাদের আচরণে অদ্ভুত কিছু মিল পাওয়া যায়। আপনারা আবার ভুল করে ভরুন ধাওয়ানের জুডুয়া টু ফিল্মের কথা ভাববেন না।


অ্যামেরিকার জেমস আর্থার স্প্রিঙ্গার আর জেমস এডওয়ার্ড লুইস যমজ ছিলেন। জন্মের পরেই লুইসকে তার খালা ভিন্ন দেশে নিয়ে যান। ওদের কারো সাথে কারোরই কোনো রকম যোগাযোগ ছিলোনা। কিন্তু কিছু আচরণের অদ্ভুত মিল প্রকাশ পায় তাদের মধ্যে।


দুই পরিবারই তাদের নাম সংক্ষেপে জিম রাখে। দুইজনের সাথে কোন যোগাযোগ না থাকলেও তারা উভয়ই ল-ইনফোর্সমেন্ট ট্রেইনিং করে, দুজনেই চিত্রাঙ্কনে খুব ভাল ছিল, দুজনেই লিন্ডা নামের দুই মেয়েকে বিয়ে করেন, দুজনেই তাদের সন্তানের নাম রাখেন এলান, তারা দুইজনই তাদের বউদের ডিভোর্স দেন এবং পরবর্তীতে বেটি নামে অন্য দুজনকে বিয়ে করেন, দুজনেই কুকুরের নাম টয় রাখেন।


তারপর যখন তাদের বছর ৩৯ বয়স। তখন তারা তাদের এই টুইন এর কথা জানতে পারে এবং ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তে তারা প্রথমবারের মত দেখা করেন!


কেন এমন হয়?

কিছু কিছু মনোবিজ্ঞানী বলেন যে, মেন্টাল টেলিপ্যাথির কারণে এমন হয়। আবার কেউ যদি খুব নিবিড়ভাবে অপর ব্যক্তি সম্পর্কে ভাবে তবে সেই চিন্তা ঐ ব্যক্তিকে স্পর্শ করে। এভাবেই মাঝে মধ্যে অদ্ভুত যোগাযোগটা হয়ে যায়।


এখন প্রশ্ন হল এই মেন্টাল টেলিপ্যাথি কী?

মেন্টাল টেলিপ্যাথি

মেন্টাল টেলিপ্যাথি প্রক্রিয়ায় কোনও এক ব্যক্তি তার মানসিক অনুভূতি, ভাবনা, ছবি, কথা ইত্যাদি অপর এক ব্যক্তির চেতনায় প্রেরণ করে থাকে। অন্য প্রান্তে থাকা অপর ব্যক্তি ওই চিন্তা, কথা, ভাবনা ও ছবি গ্রহণ করতে পারলে বা বুঝতে পারলে তাকে টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ বলা হবে।


ফোন, ই-মেইল, বা অন্য কোনও মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই এই যোগাযোগ হয়ে থাকে। কারণ এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে মানসিক যোগাযোগ স্থাপন করে থাকে। অনেকেই মনে করেন যে, প্রত্যেক মানুষেরই টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ করার ক্ষমতা রয়েছে। তবে এটা মনে রাখা জরুরী যে, টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য তীব্র মনোসংযোগ দরকার।


মেন্টাল টেলিপ্যাথিতে যোগাযোগ স্থাপনের পদ্ধতি

মনকে একাগ্র করতে হবে

টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের জন্য যেই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো নিবিড় মনোনিবেশ। তাই আগে জানতে হবে মনকে কিভাবে একাগ্র করতে হয়। এর জন্য আপনি ধ্যান করতে পারেন। কারণ ধ্যান করার মাধ্যমে মানুষের চিন্তাকে একমুখী করা সম্ভব হয়।


তাই বলা হয় যে, যাঁরা প্রতিদিন ধ্যান করেন, তাদের পক্ষেই সম্ভব হয় এই টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ করার। আর যদি কারো আগে থেকেই মন শান্ত থাকে তাহলে তার ধ্যান করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।


অনুশীলন করতে হবে

মেন্টাল টেলিপ্যাথি পদ্ধতিতে বার্তা আদৌ পৌঁছেছে কি না তা অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। প্রথমত, বার্তা কোন অবস্থায় রয়েছেন। গ্রাহকের মানসিক অবস্থা কেমন। তার সাথে গত কয়েকদিনের মধ্যে আপনার কোনো মনোমালিন্য হয়েছে কি না ইত্যাদি। তাছাড়াও এটা জানা প্রয়োজন যে, আপনি আদৌ টেলিপ্যাথিক যোগাযোগে সফল হচ্ছেন কি না।


তাই প্রথম অবস্থায় দূরে থাকা কোনও আত্মীয় বা বন্ধুর সঙ্গে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ না করে, কোনো কাছাকাছি থাকা আত্মীয়ের সঙ্গে বিষয়টি প্র্যাকটিস করতে পারেন।


যেমন- দু’জনে একই সময়ে, পাশাপাশি দুটি ঘরে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বসতে পারেন। আত্মীয়কে বার্তা প্রেরণ করার পর সে যদি কোনও বার্তা বুঝতে পারে তা যেন খাতায় লিখে রাখে তাকে তা বুঝিয়ে দিন।


প্রথম দিকে আপনি হতাশও হতে পারেন। তবে খাতায় সে কী লিখেছে সেটিও দেখা জরুরী। যেমন আপনি লাল রঙের ফুলের কথা ভেবেছেন ও তাকে বার্তা পাঠিয়েছেন। আর সে খাতায় লিখেছে ‘লাল’। এমন হলেও বুঝতে হবে, ফলাফল কিন্তু খারাপ নয়।


আর এইভাবেই যদি আপনার যোগাযোগ পোক্ত হতে শুরু করে তখন আপনি টেলিপ্যাথির মাধ্যমে দু’জন আলাদা জায়গায় বসে কাটাকুটি খেলতে পারেন। এই ভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হলে পরবর্তীতে দূরে থাকা ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব।


পরিশেষ

মেন্টাল টেলিপ্যাথি পদ্ধতিতে সেই দুটি মানুষের মধ্যে মানসিক নৈকট্য থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, নৈকট্য না থাকলে এই যোগাযোগ সম্পর্কে আপনি জানতেই পারবেন না।


অনেক সময় বলা হয় যে, টেলিপ্যাথির মাধ্যমে কানে শুনতে পান না বা চোখে দেখতে পান না এমন মানুষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব। এমনকী মনুষ্যেতর প্রাণীর সঙ্গেও এই টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ করা যায়।


আরও পড়ুনঃ রহস্যবাদী ইবনে-আরাবী: ইসলামী সুফিবাদের সবচেয়ে দূরকল্পী চিন্তক