বাংলাদেশের ৫টি সেরা পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে জানুন

বাংলাদেশ চির সবুজের দেশ। এ দেশে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এবং এখানে আছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। সেজন্যই বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ ছুটে আসেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তবে চলুন সেই দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে আসি।

বাংলাদেশের ৫টি সেরা পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে জানুন
বাংলাদেশের ৫টি সেরা পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে জানুন

জীবনে সকল প্রশান্তিই বলুন কিংবা জ্ঞান অর্জন করাই বলুন। যাই বলুন না কেন, এই সবই আপনি পেতে পারেন ভ্রমণের মধ্য দিয়ে। তাই তো মানুষ ভ্রমণ করে বিশ্বজুড়ে। আর সেজন্যই আজ বাংলাদেশের ৫টি পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।


বাংলাদেশ চির সবুজের দেশ। এ দেশে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এবং এখানে আছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। সেজন্যই বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ ছুটে আসেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তবে চলুন সেই দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে আসি।


১. কক্সবাজার


Image Source: commons.wikimedia.org


সেরা দর্শনীয় স্থান বা পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে কক্সবাজার অন্যতম। নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জনের মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের নাম কক্সবাজার। বিশ্বের বৃহত্তম এই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত অপরূপ সুন্দর। সবচেয়ে বেশি পর্যটক এই বাংলাদেশে আসে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য।


কক্সবাজার চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এর অবস্থান। ১৫৫ কিলোমিটার (৯৬ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত এই কক্সবাজার।


এছাড়াও কক্সবাজারের পাশাপাশি এখানে ভ্রমণের জন্য রয়েছে: লাবণী পয়েন্ট, হিমছড়ি, ইনানী বিচ।


এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৪১৪ কি.মি. । ৩ উপায়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়া যায়। যথা; সড়কপথ, রেলপথ, আকাশপথ। এই ৩ টি উপায়ে আপনারা কক্সবাজার যেতে পারবেন।


চলুন ভাড়া সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক -

বাস: ৭৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা নন এসি বাসের টিকিট এবং এসি বাসের টিকিট ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।


ট্রেন: ৪০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে ট্রেনের টিকিট পাবেন।


আকাশপথ: ২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯ হাজার টাকার মধ্যে যেতে পারবেন।


২. জাফলং

Image Source: commons.wikimedia.org


ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই জাফলং। এটা পর্যটকদের জন্য বিখ্যাত একটি জায়গা। জাফলং বাংলাদেশের সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। ঢাকা থেকে জাফলং এর দূরত্ব প্রায় ২৯৭ কিলোমিটার আর সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার।


আপনারা এখানে গেলে দেখতে পাবেন, ভারতের ডাউকি বন্দরের ঝুলন্ত সেতু যা এই জাফলং এ আছে। সেই সাথে আরও দেখবেন পাহাড়ি ঝর্না, পাথর ও ঝর্ণার সচ্চ পানি। লালাখাল, তামাবিল, জৈন্তাপুর, সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণাও দেখতে পাবেন এই জাফলং এ।


কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে বাসে, ট্রেনে এবং আকাশপথ এই তিনটি উপায়েই জাফলং যেতে পারবেন। তবে, যেভাবেই যান না কেনো প্রথমে আপনাকে সিলেট যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে জাফলং।


ভাড়া:

বাস: এসি বাসের টিকিট মূল্য – ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। নন-এসি বাসের টিকিট মূল্য: ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা।


ট্রেন: ২৮০ থেকে ১২০০ টাকা।


আকাশপথ: বিমানের ভাড়া ৩০০০ থেকে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত।


৩. সাজেক ভ্যালি

Image Source: commons.wikimedia.org


সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসেবে খ্যাত এই সাজেক। এই সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতা অবস্থিত সাজেক ভ্যালি।


সাজেকে একটা ব্যতিক্রমী ব্যাপার আছে। তা হল আপনি এখানে ২৪ ঘণ্টায় প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখতে পাবেন। কখনো খুবই গরম, তাপরেই আবার হটাৎ বৃষ্টি এবং এরপরই আবার দেখা মিলে চারদিকে ঢেকে যায় মেঘের চাদর! মনে হয় যেন এটা একটা মেঘের উপত্যকা।


এছাড়াও আপনারা এখানে রুইলুই পাড়া, কমলক ঝর্ণা, কংলাক পাড়া, হাজাছড়া ঝর্ণা সহ ইত্যাদি বিষয়গুলো দেখতে পাবেন।


কীভাবে যাবেন?

প্রথমে আপনাকে বাসে বা অন্য যানবাহনে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। এখানে আপনার ৫২০-৭০০ টাকা খরচ হবে। এরপর এই খাগড়াছড়ি থেকে আপনি সাজেকে বাসে বা সিএনজি বিভিন্ন মাধ্যমে যেতে পারেন।


৪. সুন্দরবন

Image Source: commons.wikimedia.org


বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থান বা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে এই সুন্দরবন আরও একটি অন্যতম স্থান। সুন্দরবন বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই সুন্দরবন।


বিশ্বের সবচেয়ে বড় অখণ্ড বনভূমি হল সুন্দরবন! এর আয়তন প্রায় ১,৩৯,৫০০ হেক্টর (৩,৪৫,০০০ একর) । প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এই সুন্দরবনে বেড়াতে আসেন।


সুন্দরবনে শুধু সুন্দরী গাছই নয়, এছাড়াও রয়েছে গরান, বাইন গেওয়া ইত্যাদি। আর প্রাণীর ভিতর রয়েছে বাঘ, সিংহ, হরিণ, হাতি, কুমির ইত্যাদি।


জামতলা সৈকত, মান্দার বাড়িয়া সৈকত, হিরন পয়েন্ট, দুবলার চরও আছে এই সুন্দরবনে। যা সত্যিই দেখার মত।


যাবেন কীভাবে?

ঢাকা থেকে সুন্দবন যেতে হলে প্রথমে আপনাকে খুলনা যেতে হবে। খুলনায় যাওয়ার পর আপনি তিনটি উপায়ে এই সুন্দরবনে যেতে পারবেন। এই তিনটি উপায় হলো বাস, ট্রেন এবং লঞ্চ।


ভাড়া কত লাগবে?

বাস: ঢাকা থেকে খুলনা নন এসি বাস ভাড়া ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা। এবং এসি বাসভাড়া – ৫৫০ থেকে ১৩০০ টাকা। ট্রেন: ট্রেনের ভাড়া ২৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।


৫. রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ

Image Source: commons.wikimedia.org


ঢাকা থেকে ৩০৮ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটি জেলা অবস্থিত। রাঙ্গামাটি জেলায় ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ হল রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ! কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত এই ঝুলন্ত ব্রিজটি। প্রায় ৩৩৫ ফুট লম্বা এটি।


সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি, রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ এর আরেকটি বিশেষ নাম। কাপ্তাই লেকের বিচ্ছিন্ন দুই পাড়ের পাহাড়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে দিয়েছে রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত এই ব্রিজটি। এই ব্রিজ দিয়ে একপাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে অনায়াসেই যাতায়েত করা যায়।


রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে এসে এখানে  আরও যা দেখতে পাবেন তা হল: শেখ রাসেল এভিয়ারী এন্ড ইকো পার্ক, শুভলং ঝর্ণা, কাপ্তাই লেক, উপজাতীয় জাদুঘর, ঝুম রেস্তোরা, টুকটুক ইকো ভিলেজ, চিৎমরম গ্রাম ও টাওয়ার ইত্যাদি।


যাবেন কীভাবে?

বাসে, ট্রেনে ও আকাশপথ এই তিনটি উপায়ে আপনি ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে যেতে পারেন। কিন্তু আপনাকে প্রথমে চট্টগ্রাম এবং সেখান থেকে রাঙ্গামাটি যেতে হবে।


ভাড়া কত লাগবে?

বাস: বাস ভাড়া ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা।


আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভালো এবং থাকুন সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।


আরও পড়ুনঃ মালনীছড়া চা বাগান: বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বপ্রথম চা বাগান