মালনীছড়া চা বাগান: বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বপ্রথম চা বাগান

বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত চা বাগান রয়েছে সিলেট সদর উপজেলায়। এই চা বাগানের নাম, মালনীছড়া চা বাগান। ১৮৪৯ সালে ১৫০০ একর জায়গা জুড়ে ইংরেজ সাহেব হার্ডসনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান মালনীছড়া।

মালনীছড়া চা বাগান: বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বপ্রথম চা বাগান
মালনীছড়া চা বাগান: বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বপ্রথম চা বাগান

চারপাশে সবুজ আর সবুজ আর উপরে নীল আকাশ। দেখে মনে হয় যেন নীল আকাশের নিচে সবুজ গালিচা। প্রকৃতির কি অপরূপ সৌন্দর্য যা নিজের চোখে না দেখলেই নয়। উঁচু নিচু অসংখ্য টিলা আছে এবং এই টিলাঘেরা সমতলে হয় সবুজের চাষাবাদ। মাঝে মাঝে রয়েছে টিলা বেষ্টিত ছোট ছোট জনপদ।


আকাবাঁকা মেঠোপথ ছুটে গেছে পাহাড়ের কিনার ঘেষে। নেই কোন যান্ত্রিক দূষণ। কোথাও আবার ছলছল শব্দে ধাবমান পথে ছুটে চলছে রূপালী ঝর্ণাধারা। প্রকৃতির সকল সৌন্দর্যের মহামিলনে এ যেন এক স্বপ্নের জগত। এমনই সীমাহীন সৌন্দর্যে একাকার হয়ে আছে স্বপ্নের জগতগুলো অর্থাৎ সিলেটের চা বাগানগুলো।


সারা বিশ্বজুড়ে সিলেটের চা বাগানের খ্যাতি রয়েছে। বাংলাদেশের মোট ১৬৩টি চা বাগান রয়েছে। এদের মধ্যে বৃহত্তর সিলেটে রয়েছে ১৩৫টি । অর্থাৎ দেশের মোট চায়ের ৯০ শতাংশই উৎপন্ন হয় সিলেটে। এজন্য সিলেটকে বলা হয় দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ।


আর বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি চা বাগান। এর মধ্যে মালনীছড়া চা বাগান উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আরও অন্যান্য চা বাগানগুলোও বেশ জনপ্রিয়। এগুলো দেখেতেও পর্যটনরা আসে বিভিন্ন সময়ে।


প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এ এক অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক। যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এবং অন্য এক ধরণের ভালোলাগার ধারক হয়ে আছে সিলেটের চা বাগান। তাই তো সবাই ছুটে যায় বিভিন্ন ছুটির অবসরে কিংবা বৈকালিক বিনোদনের তৃষ্ণা মেটাতে। চা বাগানের সবুজ অরণ্যে। সবুজের ভেতর লুকোচুরি, হৈ হুল্লোড় আর আনন্দের অবগাহন চলে সারা বিকেল ধরে।


বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত চা বাগান রয়েছে সিলেট সদর উপজেলায়। এই চা বাগানের নাম, মালনীছড়া চা বাগান। ১৮৪৯ সালে ১৫০০ একর জায়গা জুড়ে ইংরেজ সাহেব হার্ডসনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান মালনীছড়া।


বেসরকারি তত্ত্বাবধানে বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে বাগানটি। মালনীছড়া চা বাগান হলো ভ্রমনবিলাসী মানুষের কাছে আনন্দ ভ্রমন কিংবা উচ্ছ্বল সময় কাটানোর প্রথম পছন্দের স্থান। সিলেট শহরের একেবারেই অদূরে হওয়ায় পর্যটকরা চা বাগান দেখতে প্রথমেই ছুটে যান মালনীছড়ায়।


মালনীছড়া চা বাগানের প্রবেশদ্বার রয়েছে বেশ কয়েকটি। আপনি আপনার সুবিধা মতো যে কোন একটি পথ দিয়েই চা বাগান দর্শনের কাজ শুরু করতে পারেন। তবে কোনো রকম যেন ঝামেলা না হয় তার জন্য বাগানে প্রবেশের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়াই বাঞ্চনীয়। তারপর ঘুরে দেখেন বাগানের এপাশ থেকে ওপাশ অর্থাৎ সম্পূর্ণ বাগানটি।


বর্তমানে এখানে চা-এর পাশাপাশি কমলা এবং রাবারের চাষ করা হয়। এছাড়া বাগানের বাংলোও ঘুরে দেখে আসতে পারবেন। আর মালনীছড়ার পাশেই রয়েছে আলী বাহার চা বাগান। তাই চাইলে সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন।


এখন প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে যাবেন?

সিলেট শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে সহজেই রিকশা, অটোরিক্সা কিংবা সিএনজি ভাড়া করে মালনীছড়া চা বাগানে যেতে পারবেন। আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজিতে চড়ে যেতে ১০ মিনিট এবং রিকশায় ২৫ মিনিট সময় লাগে।


ঢাকা থেকে সিলেট

ঢাকা থেকে সিলেটে যেতে এসি বাসগুলোর জনপ্রতি ভাড়া সাধারণত ৮০০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। এছাড়াও ঢাকা থেকে সিলেট যেতে নন এসি বাসগুলোর জনপ্রতি ভাড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।


এছাড়া আপনি ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনেও যেতে পারেন। আর ঢাকা থেকে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ও সাচ্ছন্দে সিলেট যেতে চাইলে আকাশ পথে গমন করাটা সবচেয়ে ভালো উপায়।


কোথায় খাবেন?

খাবারের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই এই মালনীছড়া চা বাগান এলাকায়। তবে জিন্দাবাজার এলাকায় উল্লেখযোগ্য পানশী, পাঁচভাই, ভোজনবাড়ি, প্রীতিরাজ, স্পাইসি এবং রয়েলশেফ রেস্টুরেন্ট ছাড়াও বেশকিছু রেস্তোরা রয়েছে।


এছাড়া সাতকরা এবং আথনী পোলাও সিলেটের তুমুল জনপ্রিয়। চাইলে এগুলোও খেয়ে দেখতে পারেন।


কোথায় থাকবেন?

মালনীছড়া চা বাগান এলাকায় একটি সমস্যা হলো এখানে কোনো আবাসিক হোটেল নেই। ভালো মানের হোটেলে থাকতে চাইলে চলে যেতে হবে হযরত শাহজালাল (রঃ) এর দরগা এলাকায়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের এসি এবং নন-এসি রুম পাবেন ৩০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে।


সিলেটের আবাসিক হোটেলের মধ্যে রয়েছে- হোটেল রোজভিউ ইন্টারন্যাশনাল, নাজিমগড় রিসোর্ট, হোটেল ফরচুন গার্ডেন, হোটেল ডালাস, হোটেল সুপ্রিম উল্লেখযোগ্য।


আরও পড়ুনঃ প্রবাল কীটের দেহাবশেষ: সৌন্দর্যময় সেন্ট মার্টিন দ্বীপ