শর্তসাপেক্ষে ইন্টারনেট ডাটার মেয়াদ থাকছে না, যে লাউ সেই কদু!

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সিদ্ধান্ত নেন প্যাকেজের কোনো মেয়াদ থাকবে না। এটি মার্চ মাসের শুরু থেকে কার্যকরও হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের সাথে অব্যবহৃত ডাটা গ্রহক ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আরো কিছু শর্ত থাকায় ভোগান্তি সেভাবে দূর হয়নি। তাই সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, আসলে ডাটা প্যাকেজের মেয়াদ উঠিয়ে দিয়ে গ্রহকদের কতটা লাভ-ক্ষতি হয়েছে। আজকের আলোচনা গ্রাহকরা আসলে কতটা লাভবান নাকি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। 

শর্তসাপেক্ষে ইন্টারনেট ডাটার মেয়াদ থাকছে না, যে লাউ সেই কদু!
শর্তসাপেক্ষে ইন্টারনেট ডাটার মেয়াদ থাকছে না, যে লাউ সেই কদু!

বর্তমানের তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে মানুষের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্মার্ট মোবাইল ফোন স্থান করে নিয়েছে। এটির মাধ্যমে মানুষ খুব অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর সকল ধরণের তথ্য হাতের মুঠোয় পেয়ে থাকেন। ফলে প্রতিনিয়ত এটির চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


তবে স্মার্টফোন দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন তথ্য দেখা বা জানার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরী হলো ডেটা প্যাকেজ। যেটির মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। আর প্রযুক্তির এ যুগে সকল ধরনের তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থাৎ ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত থাকে।


আর ওয়েবসাইট থেকে তথ্য জানার জন্য অবশ্যই ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। দেশে প্রচলিত কয়েকটি সিম কোম্পানীর দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন মেয়াদে ডাটা প্যাকেজ গ্রাহকদের তাছে বিক্রি করে আসছে। তবে ডাটা প্যাকেজে নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকায় গ্রাহকরা সেটির পূর্ণ ব্যবহার করতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়তো।


ইন্টারনেট ডাটা নিয়ে বিটিআরসি'র সিদ্ধান্ত

এই দিকটি বিবেচনা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সিদ্ধান্ত নেন প্যাকেজের কোনো মেয়াদ থাকবে না। এটি মার্চ মাসের শুরু থেকে কার্যকরও হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের সাথে অব্যবহৃত ডাটা গ্রহক ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আরো কিছু শর্ত থাকায় ভোগান্তি সেভাবে দূর হয়নি।


তাই সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, আসলে ডাটা প্যাকেজের মেয়াদ উঠিয়ে দিয়ে গ্রহকদের কতটা লাভ-ক্ষতি হয়েছে। আজকের আলোচনা গ্রাহকরা আসলে কতটা লাভবান নাকি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।


ডেটার মেয়াদ ফেরত পাওয়ার শর্ত

ডাটার মেয়াদ অনির্দিষ্ট থাকবে এটি খুবই ভালো বিষয়। কিন্তু যখন সেটি শর্ত সাপেক্ষে হয় তখন এই সুযোগ গ্রহাকদের কতটা স্বার্থ রক্ষা করবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ শর্ত আরোপের প্রধান বিষয় হলো কোম্পানির লাভের বিষয়।


শর্ত অনুসারে, একজন গ্রাহক যদি একটি প্যাকেজের আওতায় ডাটা অবশিষ্ট থেকে যায় এবং পরবর্তীতে সেই ডাটা প্যাকেজ আবার কিনে নেন তাহলে শুধু আগের ডাটা ফেরত পাবে। এটির ছাড়া নয়। এছাড়া আগের প্যাকেজটির মেয়াদ কিছুটা বাঁকি থাকবে এবং একই প্যাকেজ ক্রয় করবে তাহলে শুধু অব্যহৃত ডাটা ফেরত পাবেন।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫.২ কোটি। ইউনিক মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা আনুমানিক ১০ কোটি অর্থাৎ প্রতি দুই জন মোবাইল গ্রাহকের বিপরীতে একজন গ্রাহক ফেসবুক ব্যবহার করে।


দেশে মোট মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার। সাবির্কভাবে এই ব্যবহারকারীদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাটা প্যাকেজের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।


নতুন নিয়ম অনুসারে প্যাকেজের পরিমাণ

মার্চ মাস থেকে দেশের সকল মোবাইল অপারেটরগুলো নিয়মিত (রেগুলার) প্যাকেজ, গ্রাহক কেন্দ্রিক বিশেষ (সিসিএসপি) প্যাকেজ ও রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আরএন্ডডি) প্যাকেজ এই তিন ধরনের প্যাকেজ প্রদান করে থাকবে। একটি অপারেটরের নিয়মিত এবং গ্রাহক কেন্দ্রিক বিশেষ প্যাকেজ মিলিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যা হবে ৮৫টি।


তবে নিয়মিত অথবা গ্রাহক কেন্দ্রিক বিশেষ প্যাকেজ সংখ্যা এককভাবে ৫০টির অধিক হতে পারবে না। মোবাইল ফোন অপারেটরসমূহ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কাজের জন্য সর্বোচ্চ ১০টি প্যাকেজ ব্যবহার করতে পারবে। প্যাকেজের ভিন্নতা নির্ধারণে দুটি প্যাকেজের মধ্যে ন্যূনতম পার্থক্য হবে ১০০ এমবি ডাটা অথবা ১০ মিনিট।


উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন গ্রাহক ৩দিন মেয়াদে ৭ গিগাবাইট (জিবি) ডেটা ও ১০০ মিনিট টকটাইমের প্যাকেজ কিনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করতে না পারেন, তাহলে অব্যবহৃত ডেটা বা টকটাইম মেয়াদ শেষে আর ব্যবহার করতে পারেন না।


কিন্তু ১ মার্চ থেকে গ্রাহকরা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একই প্যাকেজ কিনলে অব্যবহৃত ডেটা এবং টকটাইম নতুন প্যাকেজে স্থানান্তরের সুবিধা পাবেন। ফলে অব্যবহৃত ডেটা ও টকটাইম নতুন ডেটা ও টকটাইমের সঙ্গে যোগ হয়ে যাবে।


যে কোন নিয়মিত প্যাকেজ চালু করার পর বাজারে উক্ত প্যাকেজের ন্যূনতম স্থায়িত্বকাল হবে এক মাস। যে কোন গ্রাহক কেন্দ্রিক বিশেষ প্যাকেজ চালু করার পর উক্ত প্যাকেজের ন্যূনতম স্থায়িত্বকাল হবে সাত দিন। এক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরগণ উক্ত গ্রাহক কেন্দ্রিক বিশেষ প্যাকেজ বাতিল করার ১৫ দিন পর বাতিলকৃত প্যাকেজের স্থলে নতুন গ্রাহক কেন্দ্রিক বিশেষ প্যাকেজ চালু করতে পারবেন।


মোবাইল অপারেটর হতে যে কোন রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ চালু করার পর উক্ত প্যাকেজের ন্যূনতম স্থায়িত্বকাল হবে সাত দিন। তবে মাসে দুইবার অর্থাৎ ১৫ দিন পর পর এই ধরনের প্যাকেজগুলো চালু করার সুযোগ থাকবে।


অন্যদিকে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যালেন্স না থাকলেও এখন থেকে গ্রাহক ফেসবুক ও মেসেঞ্জার অ্যাপ শুধু টেক্সটের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবে। ফেসবুকের ডিসকভারি ব্রাউজারে ফ্রি ইন্টারনেট ব্রাউজিং সুবিধা চালু করা হয়েছে।


উক্ত ব্রাউজারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পাঠ্যভিত্তিক তথ্য যেমন-শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজ, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত নির্দেশনা, অন্যান্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যসহ ফ্রি ডাটা সীমার মধ্যে বিভিন্ন ই-পরিষেবায় সংযুক্ত থাকতে পারবেন।


গ্রাহকদের লাভ-ক্ষতির বিশ্লেষণ

নির্দিষ্ট সময় একজন গ্রাহক সুবিধা মত ইন্টারনেট ও টকটাইম প্যাকেজ কিনে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে হয়ত সেটি শেষ হয় না। ফলে নিজের কেনা প্যাকেজ অনেক সময় অব্যবহৃত থেকে যায়। এটির ব্যবহার করতে না পারা একজন গ্রহকের জন্য সম্মুখ ক্ষতির মত।


কারণ তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে প্যাকেজ ক্রয় করে থাকেন। কিন্তু সিম কোম্পানীদের শর্তের বেড়াজালে সেটি ব্যবহার করতে পারেন না। এসব বিষয়ে গ্রাহকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে সরকার সকল প্যাকেজের মেয়াদ তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেটি পহেলা মার্চ থেকে কার্যকর হয়। তবে এটির পরও গ্রহকদের শতভাগ স্বার্থ রক্ষা হয়নি।


কারণ গ্রাহক যদি পরপর একই প্যাকেজ না ক্রয় করেন তাহলে অব্যবহৃত প্যাকেজের বাঁকি অংশ আর ব্যবহার করতে পারবেন না। ফলে নতুন নিয়মেও গ্রাহকদের আরেক বেড়াজালে আবদ্ধ করা হচ্ছে। কারণ গ্রাহকদের সব সময় একই প্যাকেজ প্রয়োজন এবং কেনার সামর্থ নাও থাকতে পারে। তাই এদিক থেকে গ্রাহকদের এক ধরনের চাপেও ফেলা হচ্ছে।


ফলে গ্রাহকরা সেভাবে কোনো দিক থেকে লাভবান হতে পারে নি। সুতরাং গ্রাহকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এসব শর্তের বেড়াজাল দ্রুত বন্ধ করতে হবে। এতে দেশের সবার মঙ্গল হবে।


আরো পড়ুনঃ দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির কারণ ও প্রতিকার