সিলেটের অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

এই মাধবকুন্ড ইকোপার্কের মেইন গেইট থেকে মাধবকুন্ড ঝর্ণার কাছে যেতে প্রায় হাফ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হবে। প্রায় ১৬২ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত সত্যিই অপরূপ সৌন্দর্য্যের বহিঃপ্রকাশ।

সিলেটের অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি মাধবকুন্ড জলপ্রপাত
সিলেটের অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত মাধবকুন্ড জলপ্রপাত। মাধবকুন্ড বাংলাদেশের জলপ্রপাত প্রেমী পর্যটকদের কাছে কিছু বছর আগেও একমাত্র আকর্ষণ ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে আরো বেশ কিছু ঝর্ণা আবিষ্কৃত হলেও পর্যটকদের কাছে মাধবকুন্ড ঝর্ণার প্রতি আকর্ষণটা এখনও সেই আগের মতই।


মাধবকুন্ড ইকোপার্ক

সরকারী উদ্যোগে এই স্থান অরও অনেক উন্নত করা হয়েছে। এখানে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রেস্ট-হাউজ ও রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলা হয়েছে। ২৬৭ একর এলাকাকে নিয়ে মাধবকুন্ড ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ২০০১ সালে।


এই মাধবকুন্ড ইকোপার্কের মেইন গেইট থেকে মাধবকুন্ড ঝর্ণার কাছে যেতে প্রায় হাফ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হবে। প্রায় ১৬২ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত সত্যিই অপরূপ সৌন্দর্য্যের বহিঃপ্রকাশ।


পরিকুন্ড ঝর্ণা

পরিকুন্ড নামে আরো একটি ঝর্ণা আছে এই মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের কাছে। মাধবকুন্ড ইকোপার্ক ঘুরে দেখতে সারাদিন কীভাবে কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না। কারন এখানে দিনের পুরোটা সময় ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে।


ইকোপার্কে গেলে আরো দেখতে পাবেন শ্রী শ্রী মাধবেশ্বরের তীর্থস্থান, চা বাগান, খাসিয়া পল্লী, কমলা, লেবু, সুপারী ও পানের বাগান। আবার কোথাও কোথাও দেখা মিলবে জুম চাষেরও। এতকিছুর মাঝে সময়টাকে খুবই সীমিত মনে হবে।


মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক ও চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সংলগ্ন কুন্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয় চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে। সেই সময়ে এখানে মেলার আয়োজনও করা হয়। জনপ্রতি ১০ টাকা টিকেট মূল্যে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে প্রবেশ করতে হয়।


বিষয় হচ্ছে ভ্রমণের জন্য কোন সময়টা উপযুক্ত। যদি শীতকালকে উপযুক্ত সময় বলে মনে হয় তবে মনে রাখবেন এই সময়ে ঝর্ণাতে পানি কম থাকে। আর যদি ঝর্ণার পানি বেশি দেখতে চান তাহলে বর্ষা বা তার আশেপাশের সময়ে ভ্রমণ করা ভালো। কারণ এই সময়গুলোতে ঝর্ণায় অনেক পানি থাকে।


ঢাকা থেকে মাধবকুন্ড

বিয়ানীবাজার গামী শ্যামলী পরিবহন অথবা এনা পরিবহনের মাধ্যমে সবচেয়ে সহজে আপনি ঢাকা থেকে সরাসরি কাঠালতলী বাজারে নামতে পারবেন। আর সেখান থেকে রিজার্ভ সিএনজি বা লোকাল সিএনজিতে করে মাধবকুন্ড যেতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে রিজার্ভ সিএনজিতে ১৫০ থেকে ১৮০  টাকা এবং লোকাল সিএনজিতে জনপ্রতি ২০ থোকে ২৫ টাকা ভাড়া লাগবে।


ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে সেই ক্ষেত্রে ট্রেনগুলো মৌলভীবাজার হয়ে সিলেট যায়। আর ট্রেনে গেলে আপনাদের মৌলভীবাজার এর কুলাউড়া স্টেশনে নেমে যেতে হবে। আর এই ট্রেন ভাড়া শ্রেণিভেদে ১৭০ থেকে ৮০০ টাকা হয়ে থাকে। এবং সময় লাগে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা।


এবার এই কুলাউড়া স্টেশন থেকে কাঠালতলী বাজার হয়ে মধবকুন্ড যেতে রিজার্ভ সিএনজি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা লাগবে। অথবা আপনি যদি ভেঙ্গে যান তাহলে কুলাউড়া থেকে লোকাল সিএনজিতে করে কাঠালতলী বাজার যেতে হবে।


তারপর সেখান থেকে আবার রিসার্ভ সিএনজি বা লোকাল সিএনজিতে মাধবকুন্ডে যেতে পারবেন। এতে রিজার্ভ সিএনজিতে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং লোকাল সিএনজিতে জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা ভাড়া লাগবে।


কোথায় থাকবেন?

আপনি যদি মাধবকুন্ডেই থাকতে চান তাহলে সেখানে থাকার জন্য জেলা পরিষদের ২টি বাংলো ও ২টি আবাসিক হোটেল পাবেন। তবে এক্ষেত্রে অগ্রিম বুকিং দিয়ে থাকতে হবে। আর এছাড়া সবচেয়ে ভালো হয় সিলেট, মৌলভীবাজার অথবা শ্রীমঙ্গলে গিয়ে থাকলে।


এতে পরদিন যেকোন জায়গায় যাত্রা সহজ হবে। আর এই সকল জায়গায় থাকার অনেক ব্যবস্থা আছে। আপনি আপনার পছন্দমত হোটেল বা কটেজে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।


কোথায় খাবেন?

মাধবকুণ্ডে যেসকল রেস্টুরেন্টগুলো আছে সেখানে খাবারের দাম একটু বেশী হবে। তাই আপনার সুবিধা অনুযায়ী নিজেদের খাবার বাইরে থেকেও কিনে নিয়ে যেতে পারেন। অথবা সিলেট ফিরে জিন্দাবাজার এলাকায় পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্টুরেন্ট গুলোতেও খেতে পারেন। এখানে প্রায় ৩০ রকম ভর্তা পাবেন খাওয়ার জন্য।


সবাই ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।


আরও পড়ুনঃ মালনীছড়া চা বাগান: বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বপ্রথম চা বাগান