স্বল্প সময়ে শাওমি’র জনপ্রিয়তা, বিশেষ বিশেষ মডেল সম্পর্কে জানুন

শাওমি একটি জনপ্রিয় মোবাইল কোম্পানি। যার যাত্রা শুরু হয় আকর্ষণীয় স্মার্টফোন দিয়ে। খুব কম সময়ে এটি বিশ্বের প্রায় অনেক দেশেই তার জায়গা করে নিয়েছে।

স্বল্প সময়ে শাওমি’র জনপ্রিয়তা, বিশেষ বিশেষ মডেল সম্পর্কে জানুন
স্বল্প সময়ে শাওমি’র জনপ্রিয়তা, বিশেষ বিশেষ মডেল সম্পর্কে জানুন

বাজারে স্মার্ট ফোনের এক অন্যতম নাম হল শাওমি। এই নামটির সাথে কম বেশি প্রায় সকলেই পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এর ব্যবহার কিন্তু কম না।


এক নজরে শাওমির ইতিহাস

প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল
প্রতিষ্ঠাতা: লি জুন
সদরদপ্তর: বেইজিং, চীন
বাণিজ্য অঞ্চল: বিশ্বব্যাপী


এই ‘শাওমি’ ব্র্যান্ডটির যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে চীনের বেইজিং শহরে। আর এই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন লেই জুন। ‘মিভি’ নামের এন্ড্রোয়েড বেজড অপারেটিং সিস্টেম তৈরীর মাধ্যমেই তাদের যাত্রাটা শুরু হয়েছিলো।


তাদের এই তৈরীই পুরো টেক দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। আর এটিই ‘শাওমি’ ব্র্যান্ডকে নিজেদের ডিভাইস তৈরীতে উদ্ভুদ্ধ করে। তারপর থেকেই এই ব্র্যান্ডটি বিভিন্ন মডেলের স্মার্টফোন নিয়ে আসে বাজারে। সুতরাং দেখায় যাচ্ছে যে, শাওমি ব্র্যান্ড শুরুই হয়েছিলো স্মার্টফোন বিক্রির মাধ্যমে। 


শাওমি ২০১১ সালে ‘Mi One’ মডেলের স্মার্টফোনটি তৈরী করে। আর এটি ঘোষণা করার ২ দিনের মধ্যেই প্রি অর্ডার চলে আসে প্রায় ৩৪ লক্ষ।


Xiaomi Mi-1

RAM: ১ জিবি
ফ্ল্যাশ মেমরি: ৪ জিবি
ব্যাটারি: ১৯৩০ mAh
ক্যামেরা: ৮ এমপি


এরপর ২০১২ সালে তারা Mi-1 মডেলটির নতুন ভার্সন হিসেবে ঘোষণা করেন Mi-2 মডেলটি। আর এটি আরও বেশি জনপ্রিয়তা পায়। এর মূল্য ছিলো $৩১০ ডলার যা প্রায় ২৬,২৮৮ টাকা


Xiaomi Mi-2

RAM: ২ জিবি
ফ্ল্যাশ মেমরি: ১৬ জিবি
ব্যাটারি: ২০০০/৩০০০ mAh
ক্যামেরা: ৮ এমপি


একটি আশ্চর্যজনক সাফল্যের খুব কাছেই পৌঁছেছিলো ব্র্যান্ডটি। Xiaomi Mi-2 পেছেছিলো “গ্রেট চাইনিজ স্মার্টফোন” এর মর্যাদা। এর ফলে দুই বছরে কোম্পানিটি ২৫ মিলিয়ন ডিভাইস বিক্রি করেছিলো। এর মূল্য $৩০০ ডলার যা প্রায় ২৫,৪৪০ টাকা।


২০১৩ সালে তারা Xiaomi Mi-2 এর পরবর্তী ভার্সন হিসেবে Xiaomi Mi-3 ঘোষণা করেন। এই স্মার্টফোন মডেলটি প্রকাশের সাথে সাথে চীনের পণ্য সম্পর্কে যে একটা খারাপ ধারণা ছিলো যে, চীনের সবকিছুই খারাপ মানের তা দূর হয়ে গেছে।


Xiaomi Mi-3

RAM: ২ জিবি
ফ্ল্যাশ মেমরি: ১৬,৩২,৬৪ জিবি
ব্যাটারি: ৩০৫০
ক্যামেরা: ১৩ এমপি


Xiaomi Mi-3 স্মার্টফোনটি চীনের একটি অন্যতম মডেল এবং এর বৈশিষ্ট্য গুলোও ছিলো বেশ উন্নত মানের। এর মুল্য ছিল $৩০০ ডলার যা প্রায় ২৫,৪৪০ টাকা।


এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলি সত্যিই ক্রেতাকে এই প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড এর প্রতি আকৃষ্ট হতে এবং কোনো রকম সন্দেহ ছাড়াই এই চীনা কোম্পানির পণ্য দেখতে বাধ্য করে।


২০১৪ সালে Xiaomi Mi-4 মডেলটি ঘোষণা করা হয়।


Xiaomi Mi-4

RAM: ৩ জিবি
ফ্ল্যাশ মেমরি: ১৬, ৩২, ৬৪ জিবি
ব্যাটারি: ৩০৮০ mAh
ক্যামেরা: ১৩ এমপি
মূল্য: $৩২০ ডলার যা প্রায় ২৭,১৪০ টাকা


২০১৪ সালে শাওমি ছিলো ‘চায়না’য় লিডিং স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারার। ২০১৪ সালেই শাওমি ‘ফ্লিপকার্টে’র মাধ্যমে তাদের স্মার্টফোন গুলো ‘ভারতে’ বিক্রি করতে শুরু করে।


জেনে আশ্চর্য হবেন যে, সেই সময়ে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ভারতে শাওমির স্মার্টফোন বিক্রি হচ্ছিলো প্রায় ১ লক্ষ। আর মাত্র ২৪ ঘন্টায় এই ফোন বিক্রির পরিমাণ গিয়ে দাড়িয়েছিলো ২.১১ মিলিয়ন।


শুধু তাই নয়, তারা ‘গিনেজ বুকস অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’ও করেছিলো। ভাবা যায় কি পরিমানের জনপ্রিয়তা ফেয়েছিলো তারা! এরপর ২০১৫ সালে শাওমি তাদের তৈরী করা ৭০ মিলিয়ন স্মার্টফোন বিক্রি করে সারা বিশ্বে।


শাওমি স্মার্টফোনগুলোর আবার দুইটি ধরন রয়েছে। একটি হচ্ছে 'এমআই' সিরিজ এবং অপরটি হচ্ছে ‘রেডমি’ সিরিজ। তবে ‘এমআই’ ব্র্যান্ডের বিভিন্ন জনপ্রিয় গেজেট, সাথে ফিটনেস ট্রেকারও রয়েছে।


শাওমি শুধু ফোনের জন্যই ভালো তা কিন্তু নয়। এর হেডফোন বা ইয়ারফোন গুলোও হশ বেশ ভালো মানের। আর গ্রাহকদের চাহিদা আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের হেডফোন বা ইয়ারফোন ভালো হবার কারনে।


শাওমি গ্রাহকদের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তাদের এই বিশ্বস্ততার জন্যই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শাওমি অনেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সাথে বিভিন্ন দামী ব্র্যান্ডের সাথেও প্রতিযোগিতা শুরু করে। অসাধারন ফিচারে ভরপুর স্মার্টফোন হওয়া সত্ত্বেও এটি ছিলো ক্রেতাদের বাজেটের মধ্যেই।


এছাড়াও ‘শাওমি’র পাওয়ার ব্যাংক, ওয়াইফাই এক্সটেনসন, ওয়্যারলেস চার্জার ইত্যাদি জিনিসগুলোও বেশ ভালো মানের। স্মার্টফোন ছাড়াও ‘শাওমি’র তৈরী স্মার্টওয়াচ এবং স্মার্টব্যান্ডও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে বাজারে।


স্বীকৃতি

২০১৫ সালের ৫০টি অন্যতম স্মার্ট কোম্পানির তালিকায় ২য় স্থানে রয়েছে রয়েছে শাওমি। এছাড়াও ২০১৪ সালের সবচেয়ে ইনোভেটিভ কোম্পানির তালিকায় “বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল বাজারে স্মার্টফোন ব্যবসার মডেল উপস্থাপনের জন্য,” শাওমি ৩য় স্থানে রয়েছে।


পরিশেষ

শাওমি বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে ৭০টিরও বেশি দেশে। আর এভাবেই সামনে শাওমির নতুন নতুন ফোনগুলোও বাজারে তাদের জায়গা করে নিবে বলে আশা করা যায়।


সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আরও আকর্ষণীয় সব তথ্য পেতে ব্যাকস্পেস জার্নালের সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ।


আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশেও পাওয়া যায় এমন সেরা পাঁচ ব্র্যান্ডের ঘড়ি সম্পর্কে জানুন