স্মৃতি সত্যিই সুখের - এপ্রিল ফুল নিয়ে অণুগল্প

এপ্রিল ফুল নিয়ে একটি স্মৃতিমাখা অণুগল্প। বাঙালীর এপ্রিল ফুল নিয়ে একটি মজার গল্প।

স্মৃতি সত্যিই সুখের - এপ্রিল ফুল নিয়ে অণুগল্প
স্মৃতি সত্যিই সুখের - এপ্রিল ফুল নিয়ে অণুগল্প

রাণুর আজ উঠতে দেরী হয়েছে সকালে। সাতটা বাজে প্রায়। পাশে স্বামীকে দেখতে পেল না। বাইরে ছেলেমেয়েদের গলা শুনতে পেলো। তাড়াতাড়ি উঠতে যাবে এমন সময় ডোর বেলের আওয়াজ। অমু, সোনুরা এসে ডাকলো, মা…মা… দেখো কারা এসেছে।


তাদের গলা খুশীতে ভরা। ও ঘর থেকে শংকরও ডাকলেন, “কোথায় তাড়াতাড়ি এসে দেখো কারা এসেছে। ”


রাণু আঁচল সামলে হুড়ো হুড়ি করে ড্রয়িং রুমে চলে এলো, কে কারা এসেছে, সে-ও খুব উৎসুক, গলা উত্তেজনায় ভরা, শংকর বললেন, “আরে দেখোনা! দরজার কাছে গিয়ে।”


রাণু দরজার কাছে গিয়ে কাউকেই দেখতে পেলো না। বাইরে বেরিয়ে এদিক-ওদিক তাকালো, সেখানেও কেউ নেই।


- “কই কাউকে তো দেখতে পাচ্ছি না কে এসেছে!”


“এপ্রিল ফুল… এপ্রিল ফুল…” তিনজনের সম্মিলিত হাসির হুল্লোড়ে রাণুর কাণে তালা লাগবার উপক্রম। তাকিয়ে দেখলো দুরে দু’জন চাপরাশী আর ড্রাইভার দাঁড়িয়ে হাসছে।


রাণু মনে মনে প্রচন্ড রেগে উঠলো। গত রাতেই এ নিয়ে একটা প্রসঙ্গ উঠেছিল- তাকে আজ পর্যন্ত কেউ “এপ্রিল ফুল” বানাতে পারে নি। আর আজই এই কান্ড!


মুখে অবশ্য রাগের কোনো চিহ্ন ফুটে উঠতে দিল না, একটু হেসে বললো- আচ্ছা আচ্ছা আমি এপ্রিল ফুল হয়েছি কিন্তু জানিয়ে দিলাম আজকের দিনটা খুব সাবধানে থাকবে তোমরা তিনজনেই। তোমাদের এমন এপ্রিল ফুল বানাবো, তোমরা জীবনেও ভুলতে পারবে না।


- এই রকম ঘোষণা করে কিছুতেই কাউকে “এপ্রিল ফুল” বানানো যায় না।
- আচ্ছা সে দেখা যাবে।


যথা সময়ে স্বামী ও ছেলে মেয়েরা অফিস ও স্কুলে চলে গেলো। সারা দিন যেমন অন্য দিন কাটে তেমনই কেটে গেলো, এক এক করে যে যেমন স্কুল, অফিস হতে ফিরে এলো।


রাত ন’টা। “কি গো আর তো মাত্র তিন ঘন্টা, তুমি কি আমাদের আগামী বছর এপ্রিল ফুল বানাবে ঠিক করেছো?” - তিন জনে মিলে হাসতে হাসতে বলতে লাগলো।


“তিন ঘন্টা তো হাতে আছে, আগামী বছর কি হবে, আগামী বছর দেখা যাবে” - রাণুর সহাস্য উত্তর। আরো বললো, “এখন খেতে এসো, খাবার বেড়ে দিয়েছে, ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।”


সবাই মিলে খাবার টেবিলে বসলো। সুস্বাদু খাবারে টেবিল ভরা, 'বাঃ! আজ দেখছি ঝিঙে পোস্ত হয়েছে। অনেক দিন পরে করলে, ভাত ভেঙে পোস্ত দিয়ে মাখতে মাখতে শংকর বললেন, আর অমু, সোনু ভাতের গরাস মুখে দিয়েছে আর শংকরও, রানুর অট্টহাসির পালা, “কি গো কেমন খাচ্ছো ঝিঙে পোস্ত, কি রে কেমন লাগছে?”


ছি.ছি! ওয়াক ওয়াক করে তিন জনেই বেসিনের দিকে ছুটে গেলো, অনেকটা সময় লাগিয়ে ভাল করে মুখ টুখ ধুয়ে তিন জনে ফিরে এলো খাবার টেবিলে, মুখ গুলো একেবারে থমথম করছে- তুমি এতো ভয়ংকর? জানতাম না এমন করে প্রতিশোধ নিতে হয়!


'আমি তো কোনো প্রতি শোধ নিই নি। তোমাদের এপ্রিল ফুল বানিয়েছি, আর সেটা আমি বলে কয়ে ঘোষণা করে নিয়েছি, উপরন্তু তোমাদের মতো চিৎকার করে "এপ্রিল ফুল, এপ্রিল ফুল" বলিনি। কত মহৎ, সভ্য ভদ্র আমি বলো।"


তাই বলে তুমিএকেবারে বালির সঙ্গে ঝিঙে, তেল, মশলা মিশিয়ে রান্না করে আমাদের খাওয়াবে", যে বালির স্তুপের ওপর রোজ দুটো কুকুর এসে তাদের অপকর্ম করে! তোমার মনে এতোটুকু দয়া, মায়া হলনা! তিনজনে অনর্গল বলে যেতে লাগলো।


রাণু এবারে আসল ঝিঙে পোস্ত পরিবেশণ করে বললো- খাও তোমরা, এটা আসল। আমি তো বলেছিলাম আমার এপ্রিল ফুল বানানো তোমাদের কল্পনার বাইরে!


রাণুর মুখে, মনে পরিতৃপ্তির হাসি।


আরও পড়ুনঃ ছোটগল্প: এ-ও এক তিলোত্তমা