১০ জন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা এবং অভিনেত্রী যারা অস্কার জিতেছেন

পরিচালক, অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা, সাধারণ মানুষদের কাছেও কৃষ্ণাঙ্গদের গ্রহণযোগ্যতা কম। সারা বিশ্বে বর্ণবাদীদের ভীড়ে কিছু অভিনেতা রয়েছেন যারা অস্কারজয়ী হয়েছেন। আজ এমন ১০ জন মানুষ কে নিয়ে আলোচনা করা হলো।

১০ জন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা এবং অভিনেত্রী যারা অস্কার জিতেছেন
১০ জন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা এবং অভিনেত্রী যারা অস্কার জিতেছেন

সাধারণত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদেরকে অভিনয়ের জন্য অনুপযোগী মনে করা হয়। পরিচালক, অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা, সাধারণ মানুষদের কাছেও কৃষ্ণাঙ্গদের গ্রহণযোগ্যতা কম। সারা বিশ্বে বর্ণবাদীদের ভীড়ে কিছু অভিনেতা রয়েছেন যারা অস্কারজয়ী হয়েছেন।


তাঁদের মধ্যে ১০ জন এর বিষয়ে নিচে বর্ণনা করা হলো -

১. সিডনি পটিয়ার

সিডনি পটিয়ার ছিলেন অস্কারজয়ী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ। তিনি বাহামার নাগরিক ছিলেন। ১৯৬৩ সালে ‘লিলিস অব দ্য ফিল্ড’ সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেতার অস্কার পুরস্কার জেতেন।


সিডনি পটিয়ার ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক আইকন, একজন অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মী, এবং পরবর্তীতে তিনি হয়েছিলেন একজন কূটনীতিক।


হলিউডে বর্ণবাদের মূলোৎপাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পটিয়ার। ২০০৯ সালে ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পটিয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান “প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” দেওয়া হয়েছিল।


সিডনি পটিয়ার আমেরিকার মিয়ামিতে ১৯২৭ সালে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি তার ছেলেবেলা কাটান বাহামা দ্বীপপুঞ্জে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমান। তার আগে সেনাবাহিনীতে একটি কাজ নেওয়ার জন্য তাকে বয়স সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করতে হয়েছিল।


অভিনয়ের শিক্ষানবিশ সময়ে থালাবাসন ধোয়াসহ অনেক ছোটখাটো কাজ করতে হয়েছিল তাকে। ১৯৪৮ সালে পটিয়ার অভিনীত ‘অ্যানা লুকাস্টা’ ব্রডওয়েতে সাফল্য অর্জন করার দুই বছর পর রিচার্ড উইডমার্কের সঙ্গে ‘নো ওয়ে আউট’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান তিনি।


এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই অভিনেতাকে। ১৯৭৪ সালে পটিয়ারকে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ নাইট উপাধিতে ভূষিত করে। জাপান এবং জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোতে বাহামিয়ান রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পটিয়ার।


১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদেও দায়িত্ব পালন করেন কিংবদন্তি এই অভিনেতা। অবশেষে ৯৪বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।


২. হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েল

হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েল এর জন্ম ১০ই জুন ১৮৯৩ সালে ডেনভারে। তিনি ছিলেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন অভিনেত্রী, গায়িকা-গীতিকার ও কৌতুকাভিনেত্রী। তিনি গন উইথ দ্য উইন্ড (১৯৩৯) চলচ্চিত্রে “মামি” চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।


এই চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। হলিউড ওয়াক অব ফেমে ম্যাকড্যানিয়েলের নামাঙ্কিত দুটি তারকা রয়েছে, প্রথমটি বেতারে তার অবদানের জন্য ৬৯৩৩ হলিউড বলেভার্ডে এবং অপরটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৭১৯ ভাইন স্ট্রিটে অবস্থিত।


তিনি প্রথম আফ্রো-মার্কিন অভিনয়শিল্পী হিসেবে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বেতারে ও টেলিভিশনেও কাজ করেছেন। তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেতার গান গেয়েছেন। তিনি তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।


১৯৭৫ সালে ব্ল্যাক ফিল্মমেকার্স হল অব ফেমে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ২০০৬ সালে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অস্কার বিজয়ী হিসেবে তার সম্মানার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাকটিকেট উন্মুক্ত করা হয়। তিনি তার পিতামাতার ১৩ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।


তার মাতা সুজান হোলবার্ট একজন গসপেল সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন এবং তার পিতা হেনরি ম্যাকড্যানিয়েল ১২২তম মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ সৈন্যদলের হয়ে গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯০০ সালে তাদের পরিবার কলোরাডোয় চলে যায়, সেখানে প্রথমে ফোর্ট কলিন্সে ও পরে ডেনভারে বসবাস করে।


ম্যাকড্যানিয়েল ১৯০৮ থেকে ১৯১০ পর্যন্ত ডেনভার ইস্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯০৮ সালে তিনি উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান টেম্পারেন্স ইউনিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত আবৃতি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রথম স্থান অর্জন করেন। তার ভাই স্যাম ম্যাকড্যানিয়েল (১৮৮৬-১৯৬২) হেভেনলি ডেজ-এ বাটলার চরিত্রে অভিনয় করেন। তার বোন ইটা ম্যাকড্যানিয়েলও একজন অভিনেত্রী।


৩. ডেনজেল ওয়াশিংটন

বেশিরভাগ মানুষ মনে করে একজন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতাকে মূল নায়ক হিসেবে শ্বেতাঙ্গ দর্শকরা গ্রহণ করতে অভ্যস্ত নন। ডেনজেল ওয়াশিংটন এই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছেন। মঞ্চ কিংবা সিনেমা সবখানেই তিনি তার অভিনয়ের সুবাদে পেয়েছেন তুমুল দর্শকপ্রিয়তা।


তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা, যিনি আজ পর্যন্ত নয়বার অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন এবং দুবার অস্কার জিতেছেনও। তার মতো মাত্র পাঁচজন অভিনেতা অস্কারে সেরা অভিনেতা ও পার্শ্ব অভিনেতা উভয় পুরষ্কার জিতেছেন। ডেনজেলের জন্ম ১৯৫৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কে। তার বাবা ছিলেন একজন ধর্মযাজক এবং মা কেশ পরিচর্যাকারী।


এ দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে ডেনজেল ছিলেন ২ নম্বর। ডেনজেল এর কখনো অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা থাকায় তার প্রথম পছন্দের বিষয় ছিল জীববিজ্ঞান এবং এ বিষয় নিয়েই তিনি পড়াশোনা করেছেন। তবে কিছু দিন পর বিষয় পাল্টে ভর্তি হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে।


পরবর্তীতে তা-ও পছন্দ না হওয়ায় শেষে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে নিতে চিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে সহপাঠীদের জোরাজুরিতে তাদের একটি নাটকে অভিনয় করলেন।


সেখান থেকেই শুরু। পড়াশোনা শেষে তিনি চলে গেলেন সানফ্রান্সিকোতে এবং সেখানকার আমেরিকান কনজারভেটরি থিয়েটারে যোগদান করলেন। অবশ্য এর আগেই ডেনজেল নিউ ইয়র্কের ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।


আমেরিকান কনজারভেটরি থিয়েটারে এক বছর কাজ করার পর ডেনজেল স্বাধীনভাবে পেশাদার অভিনয়ের মাধ্যমে উপার্জনের সুযোগ খুঁজতে শুরু করলেন। তিনি প্রথমে ম্যারিল্যান্ডের মঞ্চে উইংস অব দ্য মর্নিং নাটকে অভিনয় করে নজর কাড়েন।


পরবর্তীতে তার অভিনয়ের দক্ষতার কারণে বিভিন্ন টেলিভিশন সিরিজে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়। ১৯৮১ সালে কার্বন বয় সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম বড় পর্দায় কাজ করেন। ১৯৮০ এর দশকে তিনি সমান তালে টেলিভিশন সিরিজ ও সিনেমায় অভিনয় করে গেছেন।


১৯৮৯ সালে তিনি যখন গ্লোরি সিনেমায় অভিনয়ের কারণে সেরা সহ-অভিনেতার অস্কার পুরষ্কার জেতেন, তারপর থেকে সিনেমার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেন। নব্বইয়ের দশক থেকে আজ পর্যন্ত তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছে।


এ সময় তিনি সত্য ঘটনা ও আত্মজীবনী কেন্দ্রিক অনেকগুলো সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে আছে মধ্যে আছে ম্যালকম এক্স (১৯৯২), দ্য হারিকেন (১৯৯৯), রিমেম্বার দ্য টাইটানস (২০০০), দ্য গ্রেট ডিবেটার্স (২০০৭), আমেরিকান গ্যাংস্টার্স (২০১০) ইত্যাদি।


ম্যালকম এক্স এবং দ্য হারিকেন সিনেমায় তিনি অস্কারের জন্য মনোনীত হলেও চূড়ান্ত পুরষ্কার আর পাননি। ২০০১ সালে ট্রেইনিং ডে সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতার অস্কার লাভ করেন। ম্যালকম এক্স চরিত্রটি তাকে এতটাই মুগ্ধ করে যে, তিনি ম্যালকম এক্সের সম্মানে তার এক পুত্রের নাম রাখেন ম্যালকম।


সত্য ঘটনা কিংবা আত্মজীবনী কেন্দ্রিক সিনেমা ছাড়াও নব্বইয়ের দশকে ডেনজেল বেশ কিছু বিনোদনধর্মী বড় বাজেটের সিনেমায়ও কাজ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দ্য পেলিকান ব্রিফ (১৯৯৩), ফিলাডেলফিয়া (১৯৯৩), ক্রিমসন টাইড (১৯৯৩) ও কারেজ আন্ডার ফায়ার (১৯৯৬)। এর মাঝে কারেজ আন্ডার ফায়ার সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তাকে দশ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়।


একজন শক্তপোক্ত দৃঢ় চরিত্রের মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০০০ সাল থেকে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে আছে আউট অব টাইম (২০০৩), ম্যান অন ফায়ার (২০০৪), ইনসাইড ম্যান (২০০৬), দ্য টেকিং অব ফেলহ্যাম ১২৩ (২০০৯), আনস্টপেবল (২০১০), ফ্লাইট (২০১২), সেফ হাউজ (২০১২), টু গানস (২০১৩), দ্য ইকুইলাইজার (২০১৪) ইত্যাদি।


অভিনয়ের পাশাপাশি ডেনজেল ওয়াশিংটন পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। ২০০২ সালে তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা এন্টনি ফিশার মুক্তি পায়। এরপর তিনি আরও দুটো সিনেমা পরিচালনা করেছেন। ১৯৭৭ সালে এক টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করার সময় ডেনজেলের সাথে পরিচয় হয় সহ-অভিনেত্রী পল এটার।


পরিচয়ের পাঁচ বছর পর তারা বিয়ে করেন। ১৯৮৪ সালে তাদের প্রথম পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। ১৯৮৭ সনে তাদের কন্যার জন্ম হয়। ১৯৯১ সালে ডেনজেল পরিবারে জমজ দুই পুত্রের আগমন ঘটে।


৪. উপি গোল্ডবার্গ

উপি গোল্ডবার্গ পেশাগতভাবে পরিচিত ক্যারিন এলাইন জনসন নামে। তিনি ১৯৯০সালে “ঘোস্ট” এর জন্য অস্কার লাভ করেন। তিনি একজন মার্কিন অভিনেত্রী, কৌতুকাভিনেত্রী, লেখিকা ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা। তিনি ১৩টি এমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেছেন। তিনি একটি এমি পুরস্কার, একটি গ্র্যামি পুরস্কার, একটি একাডেমি পুরস্কার ও একটি টনি পুরস্কার অর্জন করেছেন।


এছাড়া তিনি দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে অভিনয় শাখায় একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি ১৩ নভেম্বর ১৯৫৫সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। গোল্ডবার্গ খ্যাতির শিখরে পৌঁছান দ্য কালার পার্পল চলচ্চিত্রে সেলি চরিত্রে অভিনয় করে, এই কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং তার প্রথম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অর্জন করেন।


১৯৯০ সালে প্রণয়ধর্মী কাল্পনিক চলচ্চিত্র ঘোস্ট-এ অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন এবং দ্বিতীয় গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অর্জন করেন।


৫.কিউবা গুডিং

কিউবা গুডিং ২ জানুয়ারী, ১৯৬৮ সালে ব্রঙ্কস, নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা, শার্লি সুলিভান, একজন গায়ক, এবং তার বাবা কিউবা গুডিং সিনিয়র, সোল গ্রুপ দ্য মেইন ইনগ্রেডিয়েন্টের প্রধান কণ্ঠশিল্পী ছিলেন।


গুডিংয়ের তিন ভাইবোন আছে: এপ্রিল, ওমর এবং টমাস। তার পিতামহ, ডুডলি ম্যাকডোনাল্ড গুডিং, বার্বাডোসের অধিবাসী ছিলেন। ১৯৭২ সালে তার বাবার মিউজিক গ্রুপের হিট একক “এভরিবডি প্লেস দ্য ফুল” হওয়ার পর তার পরিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসে; দুই বছর পর, বড় গুডিং পরিবার ছেড়ে চলে গেল।


গুডিং নিজে তার মায়ের দ্বারা বেড়ে ওঠেন এবং চারটি ভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন: নর্থ হলিউড হাই স্কুল, টাস্টিন হাই স্কুল, অ্যাপল ভ্যালি হাই স্কুল এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্রানাডা হিলস-এর জন এফ কেনেডি হাই স্কুল।


তিনি ১৩ বছর বয়সে খ্রিস্টান হয়েছিলেন। গুডিং-এর প্রথম কাজ ছিল ব্রেকড্যান্সার হিসেবে, লস অ্যাঞ্জেলেসে ১৯৮৪ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানে গায়ক লিওনেল রিচির সাথে পারফর্ম করা।


তিনি তিন বছর জাপানি মার্শাল আর্ট অধ্যয়ন করেন। প্রথম দিকে, তিনি হিল স্ট্রিট ব্লুজ (১৯৮৭), আমেন (১৯৮৮) এবং ম্যাকগাইভার (১৯৮৮, ১৯৮৯ এবং ১৯৯০) এর মতো শোতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এবং জনপ্রিয় কমেডি কামিং টু আমেরিকা (১৯৮৮) -এ একটি ছোট অংশও ছিলেন।


গুডিং-এর প্রথম প্রধান ভূমিকা ছিল জন সিঙ্গেলটনের অভ্যন্তরীণ-শহরের অপরাধ নাটক বয়েজ এন দ্য হুড (১৯৯১), যেখানে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, Tre Styles। ছবিটি বক্স অফিসে চমক এবং সমালোচনামূলক হিট ছিল এবং এটিকে আধুনিক ক্লাসিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


A Few Good Men and Gladiator (১৯৯২), Judgment Night (১৯৯৩), Lightning Jack (১৯৯৪), এবং Outbreak (১৯৯৫) এর মত প্রধান চলচ্চিত্রে সহায়ক ভূমিকা নিয়ে তিনি এই সাফল্য অনুসরণ করেন।


১৯৯৬ সালে, গুডিং প্রাধান্যের একটি নতুন স্তরে পৌঁছেছিলেন যখন তিনি ক্যামেরন ক্রো-এর নাটকীয় স্পোর্টস কমেডি জেরি ম্যাগুইরে (১৯৯৬) সহ-অভিনেতা টম ক্রুজের সাথে একজন অহংকারী কিন্তু ক্যারিশম্যাটিক ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে অভিনয় করেছিলেন। সেরা পার্শ্ব অভিনেতার জন্য গুডিং একটি অস্কার জিতেছেন।


৬. হ্যালি বেরি

হ্যালি বেরি ২০০২ সালে অস্কারজয়ী কৃষ্ণাঙ্গ নারী। হ্যালি বেরি ১৪ আগস্ট, ১৯৬৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, প্রাক্তন ফ্যাশন মডেল, এবং বিউটি কুইন।


ইন্ট্রোডিউসিং ডরোথি ড্যানড্রিজ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি এমি, গোল্ডেন গ্লোব, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড এবং এবং এনএএসিপি ইমেজ পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া মনস্টারস বল চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ২০০১ সালে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন ও বাফটা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।


তিনি-ই প্রথম আফ্রিকান-মার্কিন বংশদ্ভূত অভিনেত্রী যিনি সেরা অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি হলিউডের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী। এছাড়া কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণে অভিনেত্রী ছাড়াও অন্যান্য অংশের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।


৭. মরগান ফ্রিম্যান

মরগান পোর্টারফিল্ড ফ্রিম্যান ১ জুন, ১৯৩৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন মার্কিন অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, এবং নির্দেশক। ২০০৫ সালে মিলিয়ন ডলার বেবি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মরগান ফ্রিমান সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া এর আগে তিনি স্ট্রিট স্মার্ট, ড্রাইভিং মিস ডেইজি, এবং দ্য শশ্যাঙ্ক রিডেম্পশন-এর জন্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছেন।


এছাড়াও তিনি একবার করে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার ও স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার লাভ করেছেন। বিভিন্ন বক্স অফিসের সফল চলচ্চিত্রে ফ্রিম্যানকে দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে, আনফরগিভেন, সেভেন, ডিপ ইমপ্যাক্ট, দ্য সাম অফ অল ফিয়ারস, ব্রুস অলমাইটি, ব্যাটম্যান বিগিন্স, দ্য বাকেট লিস্ট, এভান অলমাইটি, ওয়ান্টেড, এবং দ্য ডার্ক নাইট।


৮. অক্টাভিয়া স্পেনসার

অক্টাভিয়া লেনোরা স্পেন্সার ২৫শে মে, ১৯৭২ সালে জজন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন মার্কিন অভিনেত্রী ও লেখিকা। তিনি একটি একাডেমি পুরস্কার, একটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, একটি বাফটা পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রীর একজন, যিনি তিনটি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেছেন এবং একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী হিসেবে টানা দুইবার এই পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেছেন।


স্পেন্সার ১৯৯৬ সালে নাট্যধর্মী “আ টাইম টু কিল” চলচ্চিত্র দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। পরের দশকে তিনি একাধিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে ছোটো চরিত্রে কাজ করেন।


তার অভিনীত প্রথম সফল চলচ্চিত্র হল ২০১১ সালে দ্য হেল্প, এতে তিনি ১৯৬০-এর দশকের একজন গৃহপরিচারিকা চরিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার ও বাফটা পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার লাভ করেছেন।


রায়ান কুগলারের নাট্যধর্মী ফ্রুটভেল স্টেশন (২০১৩)-এ অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউ পুরস্কার অর্জন করেছেন।


৯. মাহারশালা আলি

মাহারশালা আলি একজন মার্কিন অভিনেতা। ৮৯তম একাডেমি পুরস্কারে তার পুরস্কার বিজয় ছিল অস্কারের ইতিহাসে অভিনয়ের জন্য প্রথম কোন মুসলমান কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীর অস্কার বিজয়। মাহারশালালহাশবাজ আলি গিলমোর, পেশাগতভাবে মাহারশালা আলি নামে পরিচিত।


তিনি একজন মার্কিন অভিনেতা ও র‍্যাপার। আলি ক্রসিং জর্ডান ও থ্রেট ম্যাট্রিক্স ধারাবাহিক দিয়ে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। বিজ্ঞান কল্পকাহিনীমূলক দ্য ৪৪০০ ধারাবাহিকে রিচার্ড টাইলার চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম সফলতা লাভ করেন।


তার প্রথম উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল ২০০৮ সালের ডেভিড ফিঞ্চার পরিচালিত প্রণয়ধর্মী কাল্পনিক নাট্য চলচ্চিত্র দ্য কিউরিয়াস কেইস অফ বেঞ্জামিন বাটন, এবং অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে প্রিডেটর্স, দ্য প্লেস বিয়ন্ড দ্য পাইনস, ফ্রি স্টেট অব জোন্স, হিডেন ফিগারস্‌ এবং দ্য হাঙ্গার গেমস ধারাবাহিক।


এছাড়া তিনি নেটফ্লিক্সের হাউজ অব কার্ডস ধারাবাহিকে রেমি ডেন্টন এবং লুক কেজ ধারাবাহিক কর্নেল “কটনমাউথ” স্টোকস চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। মুনলাইট (২০১৬) চলচ্চিত্রে হুয়ান চরিত্রে তার অভিনয়ের জন্য তিনি সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে একাডেমি পুরস্কার, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার ও ক্রিটিকস চয়েস চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার ও বাফটা পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।


১০. ভায়োলা ডেভিস

অস্কারজয়ী ভায়োলা ডেভিস ১১ আগস্ট ১৯৬৫সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন মার্কিন অভিনেত্রী ও প্রযোজক। তিনি একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ নারী যিনি তিনবার একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং একবার একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন।


এছাড়া তিনি একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পী যিনি অভিনয়ের ত্রি-মুকুট লাভ করেন। ২০১২ সালে টাইম ম্যাগাজিনের করা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান অধিকার করেন। ১৯৯৩ সালে জুলিয়ার্ড স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর তিনি মঞ্চ নাটক দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন।


১৯৯৯ সালে তিনি এভরিবডিস রুবিতে রুবি ম্যাককলাম চরিত্রে অভিনয় করে ওবি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০০০ এর দশকের প্রথম দিকে তিনি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে পার্শ্ব ও ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন।


এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কেট অ্যান্ড লিওপোল্ড (২০০১) ও ফার ফ্রম দ্য হেভেন (২০০২) এবং ল অ্যান্ড অর্ডার: স্পেশাল ভিকটিমস্‌ ইউনিট। ২০০১ সালে ভায়োলা মৌলিক নাটক কিং হেডলি টু এ অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ মঞ্চ অভিনেত্রী হিসেবে টনি পুরস্কার লাভ করেন। ভায়োলার অভিনয় জীবনের ব্রেকথ্রু আসে ২০০৮ সালে ডাউট চলচ্চিত্র দিয়ে।


এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার এবং একাডেমি পুরস্কারে মনোনয়ন লাভ করেন। ২০১০ সালে অগাস্ট উইলসন নির্দেশিত ফেন্সেস নাটকে রোজ ম্যাক্সসন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ মঞ্চ অভিনেত্রী হিসেবে টনি পুরস্কার লাভ করেন।


২০১১ সালে ভায়োলা দ্য হেল্প চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার এর মনোনয়ন লাভ করেন এবং সেরা অভিনেত্রী বিভাগে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার অর্জন করেন।


২০১৬ সালে ফেন্সেস নাটক অবলম্বনে নির্মিত ফেন্সেস চলচ্চিত্রে অ্যামান্ডা ওয়ালার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, বাফটা পুরস্কার, ক্রিটিকস চয়েস চলচ্চিত্র পুরস্কার, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার এবং একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন।


পরিশেষ

সিনেমায় কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা এবং অভিনেত্রীদের কৃতিত্ব একটি স্মারক আরোহণ হয়েছে। তাদের অস্কার জয় নতুনদের জন্য অনুপ্রেরণার রূপ নিচ্ছে।


আরও পড়ুনঃ বিটিএস কী! সবাই এই বিষয়ে এত সমালোচনা করছেন কেন?