রকেট কি? রকেট সম্পর্কে জানুন

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস এর যৌথ উদ্যোগে যে প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বাংলাদেশে চালু করা হয় সেটা হলো ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংক। রকেট মোবাইল ব্যাংকিং সম্পর্কে আমরা আজকে বিভিন্ন তথ্য জানতে চলছি। কিভাবে রকেট ব্যবহার করবেন তা জেনে নিন।

মে 21, 2023 - 17:00
মে 21, 2023 - 12:19
 0
রকেট কি? রকেট সম্পর্কে জানুন
রকেট কি? রকেট সম্পর্কে জানুন

রকেট কি?

আমরা সাধারণত জানি যে রকেট হলো দ্রুত গতি সম্পন্ন আকাশ যান। যার দ্বারা মহাকাশে ভ্রমণ করা হয়। কিন্তু আমরা আজকে আমরা জানতে চলেছি বাংলাদেশর প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেট সম্পর্কে। রকেট এর আত্মপ্রকাশ ঘটে সেই ২০১১ সালের দিকে ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকের হাত ধরে।


সে সময়ে রকেট নামে পরিচিতি ছিলো না, ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংক নামেই পরিচিত ছিলো কিন্তু তারা নাম পরির্বতন করে রাখে রকেট। বাংলাদেশ মোবাইল ব্যাংকিং এর মধ্যে অন্যতম হলো রকেট মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। এটি মূলত দুইটি দেশের সমন্নয়ে গঠিত এটি। নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশর ডাচ বাংলা ব্যাংক নিয়ে গঠিত হয় রকেট।


এটি প্রধান প্রয়াশ ছিলো যে, রকেট এর গতিতে গ্রাহকদের কাছে তাদের সেবা প্রদান করা। বর্তমানে তাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। সেই লক্ষ্য তারা ব্যাপক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের ব্যাংকিং সেবা আপনার হাতের মুঠোয়। দ্রুত গতির জন্য টাকা উত্তোলন এর জন্য রকেট হতে পারে আপনার জন্য সেরা একটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা।


রকেট ব্যবহার করে আপনি মোবাইল ফোনে রকেট অ্যাপ দিয়ে যে সকল ব্যংকিং সেবা নিতে পারবেন তা হলো: টাকা জমা রাখা, টাকা উত্তোলন করা, বিভিন্ন প্রকার বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল প্রদান করা। এছাড়াও বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আনা ইত্যাদি আপনি রকেট দ্বারা করতে পারবেন।


আর রকেট হচ্ছে ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার নাম। ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংক দেশে প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং শুরু করে যেটাকে আমরা এখন রকেট হিসেবে চিনি


রকেট থেকে কি কি ধরনের সুবিধা আপনি পাবেন?

মোবাইল ব্যাংকিং যেটা কে আমরা ডিজিটাল আর্থিক ব্যাংকিং বলে থাকি এবং যার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন প্রকার মোবাইল ব্যাংক থেকে অনেক প্রকার ডিজিটাল সেবা নিয়ে থাকি ঠিক তেমনই ভাবে আমরা রকেট থেকে যেসকল ডিজিটাল সুবিধা পেতে পারি তা নিম্নে দেওয়া হলো,


১. রকেট অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা জমা করা

২. রকেট গ্রাহক নিবন্ধন করা

৩. রকেট থেকে যে টাকা জমা আছে তা উত্তোলন করা

৪. রকেট আপনাকে দেবে এটিএম মেশিনে ফ্রি তে টাকা উত্তোলন করার সুবিধা


রকেট থেকে আপনি বাংলাদেশের যেকোনো মোবাইল অপারেটর সিমে রির্চাজ করতে পারবেন। যে কোন ধরনের ইউটিলিটি বিল প্রদান করতে পারবেন। যেমন ধরুন: বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, ওয়াসার বিল, ডেস্কোর বিল ইত্যাদি প্রদান করতে পারবেন। বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটে কেনাকাটা করে বিল প্রদান করতে পারেবন ক্ষেত্রে বেশি কেনাকাটা করলে রকেট আপনাকে বিশেষ ছাড় প্রদান করবে।


জরুরি টাকার প্রয়োজনে আপনি মূহুর্তের মধ্যে রকেট এর দ্বারা দেশের এক
প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নিমিষেই টাকা পাঠিয়ে দিতে পারবেন। বেতন ভাতা প্রেরণ আজকাল বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কর্মীদের বেত রকেট দ্বারা প্রদান করে থাকে রকেট দ্বারা আপনি বিভিন্ন প্রকার সরকারি বিল প্রদান করতে পারবেন যেমন সরকারি চাকরি তে আবেদন এর সময় রকেট দ্বারা টাকা পাঠাতে পারবেন। এই সকল ডিজিটাল সেবা আপনি রকেট অ্যাপ দ্বারা নিতে পারবেন।


কীভাবে রকেট অ্যাকাউন্ট খুলবেন?

আপনার যদি একটি স্মার্টফোন থেকে থাকে তাহলে আপনি ঘরে বসে খুলে ফেলতে পারবেন একটি রকেট অ্যাকাউন্ট। নিজে নিজে রকেট অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি রকেট অ্যাপ নামাতে হবে।


আর যদি আপনার স্মার্টফোন না থাকে থাকে তাহলে আপনি আপনার পরিচিত রকেট এজেন্টের কাছে যাবেন। কিংবা ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং এর অফিসে যাবেন। তাহলে আপনাকে একটি রকেট অ্যাকাউন্ট তারা খুলে দেবে।


রকেট অ্যাকাউন্ট খুলতে কি কি কগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে?

আপনি যদি নিজের অ্যাপ থেকে নিজের অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তাহলে আপনাকে নিজের জাতীয় পরিচয় পত্র কিংবা পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর যে কোনো একটি প্রদান করতে হবে। আপনার একটি নিজস্ব ছবি প্রদান করতে হবে


তার সাথে যে অপারেটর এর সিম দ্বারা অ্যাকাউন্ট খুলবেন তার নম্বর প্রদান করতে হবে। আর যদি আপনার স্মার্টফোন না থাকে তাহলে ডিবিএল এর এজেন্টে গিয়ে এইসব নথিপত্র জমা দিবেনতারা আপনাকে একটি রকেট অ্যাকাউন্ট খুলে দেবে।


রকেট অ্যাকাউন্ট খুলতে পিন এর প্রয়োজনীয়তা কি?

যেকোনো মূল্যবান সম্পদ আপনি নিরাপত্তার সহিত রেখে দেন তেমন করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আপনি আপনার মূল্যবান টাকা রকেটে জমা রাখতেছেন। সেটার নিরাপদ রাখার জন্য অবশ্যই আপনাকে একটি পাসওয়ার্ড প্রদান করতে হবে। কেননা টাকা জমা করার পর আপনি টাকা উত্তোলন করতে চাইলে আপনাকে সেই পাসওয়ার্ড প্রদান করতে হবেএতে করে রকেট নিশ্চিত হবে যে পনি-ই টাকাটা তুলছেন কেননা আপনি বাদে পাসওয়ার্ড টি কেউ জানে নাতাই একটি পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন আছে


কেটের ইউসএসডি (USSD) কোড কি?

যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং এর একটি করে ইউসএসডি কোড প্রদান করা করা হয়। সেই কোড ব্যবহার করে যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না তারা এই সুবিধা নিয়ে থাকেন। ডাচ বাংলা মোবাইব্যাংকিং এর পরিচালনা করার রকেট এর কোড হচ্ছে, *৩২২#


রকেট এর বিভিন্ন লেনদেনে চার্জ কত?

অন্য মোবাইল ব্যাংকের মতোই রকেট ক্যাশ আউট চার্জ নিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন প্রকার লেনদেন এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্যাশ আউট চার্জ নিয়ে থাকে রকেট। যার মাধ্যমে গ্রাহক দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নিমিষেই টাকা পাঠিয়ে দিতে পারে।


দেশের অন্য সব ব্যাংকের মতোই রকেট তার নিদিষ্ট পরিমাণ চার্জ নিয়ে থাকে সাধারণত রকেট এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট চার্জ একটু বেশি কাটে তাইপনারা যদি পারেন তাহলে এটিম শাখা থেকে ক্যাশ আউট  করেবেন এতে করে চার্জ কম কাটবে।


আপনি যদি রকেট এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করেন তাহলে আপনাকে হাজারে ১.৮৮ টাকা ফি প্রদান করতে হবে। এর অর্থ হলো, হাজারে ১৮ টাকাআর যদি এটিএম থেকে করেন তাহলে দিতে হবে ৯.৯৯ টাকা হাজারেআর উপবৃত্তি এর ক্ষেত্রে হাজারে ১% বা ১০ টাকা করে চার্জ কাটবে আর সেন্ড ম্যানির ক্ষেত্রে ৫ টাকা প্রদান করতে হবেআর সেন্ড ম্যানিতে লিমিট প্রদান করা থাকে


রকেট থেকে চার্জ ফ্রি যেগুলা সার্ভিস পাবেন ATM  বুথ থেকে টাকা উত্তোলন একদম ফ্রি। যে কোনো সরকারি বা কোম্পানি বেতন বা ভাতা ফ্রিতে প্রদান করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স ফি একদম ফ্রি। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে রকেট আকাউন্টে টাকা আনা একদম ফ্রি। বেশি টাকার ক্ষেত্রে ১% প্রদান করা লাগে। ভিসা বা মাস্টার্ড কার্ড থেকে রকেটে টাকা অ্যাড (যুক্ত) করতে কোনো প্রকার চার্জ প্রদান করা লাগবে না।



বিদেশ থেকে কিভাবে রকেটে রেমিট্যান্স আনবেন?

বাংলাদেশি প্রবাসীগণ সহজেই রকেট এর মাধ্যমে নিজ দেশে রেমিট্যান্স দিতে পারবেন প্রথমে আপনাকে একটি এক্সচেঞ্জ হাউসে গিয়ে রকেট এর অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রদান করে সেই অ্যাকাউন্টে টাকা প্রদান করতে হবে।


আর রেমিট্যান্স
পাঠানোর নিয়ম হলো যে, বিদেশে অবস্থানরত একচেঞ্জ হাউজগুলো কে যে সকল তথ্য দিতে হবে তা হলো। টাকার পরিমাণ যার কাছে টাকা পাঠাবেন তার নাম, ব্যাংকের নাম ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং, রকেট অ্যাকাউন্ট নম্বর যে নাম্বারে ডাচ বাংলা ব্যাংক এর অ্যাকাউন্ট খোলা আছে। এসকল তথ্য অনুযায়ী একচেঞ্জ হাউস। আপনার রকেটে টাকা পাঠাবে টাকা পাঠানো নিশ্চিত হলে একটি মাসেজ আসবে আপনার ফোনে


আজকাল তথ্য প্রযুক্তির যুগে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সকল প্রকার ব্যাংকগুলিতেমনই ভাবে তারা তাদের গ্রাহকদের কে দিতে চাচ্ছে সর্বাধিক সুবিধা এবং ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সেবা যেটা সম্ভব হয়ছে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। আর বাংলাদেশে নিরিবিলি ভাবে এই সেবা প্রদান করে যাচ্ছে দেশের আনাচে কানাছে প্রতিটা প্রান্তে রকেট এবং চেষ্টা করছে তাদের গ্রাহকদের কে মানসম্মত সেবা প্রদান করার।


বাংলাদেশের সকল প্রকার মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে দ্য ব্যাকস্পেস জার্নাল এর সাথেই থাকুন ধন্যবাদ

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

সাদিকুর রহমান সাব্বির ছাত্র, আজিজুল হক কলেজ (বগুড়া)